নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পাঁচ কিলোমিটার পিচের রাস্তার তৈরির জন্য বরাদ্দ হয়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। ছ’মাস আগে ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। সেই মতো রাস্তার কাজও শুরু হয়ে যায়। এখনো পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশের কাজ হয়েছে। কিন্তু সেই কাজের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। কারণ, সদ্য তৈরি রাস্তার বিভিন্ন অংশে এখনই অনেক গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, একটু চাপ দিলেই সরে যাচ্ছে পিচ। মোটা টাকা ব্যয়ে তৈরি এই রাস্তা অল্প সময়েই ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যাবে বলে মেনে নিচ্ছেন শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরাও। বারাসত ১ নম্বর ব্লকের কদম্বগাছি থেকে দত্তপুকুর ২ পঞ্চায়েতের তেঁতুলতলা পর্যন্ত রাস্তার এই অবস্থা। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করে বেহাল রাস্তা সংস্কার করছে। সেই সূত্রেই বারাসত ১ নং ব্লকের কদম্বগাছি থেকে কোটরা পঞ্চায়েত হয়ে দত্তপুকুর ২ নং পঞ্চায়েতের তেঁতুলতলা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিমি রাস্তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়। এই রাস্তা এতটাই বেহাল অবস্থায় ছিল যে যাতায়াত অত্যন্ত দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কালসারা, উলা, মানিকতলা, কালিয়ানি, দত্তপুকুর সহ একাধিক গ্রামের মানুষের যাতায়াতের ভরসা এই রাস্তা। তাই বেহাল রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। ডাব্লিউবিএসআরডির পক্ষ থেকে গত বছর এপ্রিল মাসে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। বরাদ্দ হয় ৫ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার কাজ হয়েছে। কিন্তু সেই রাস্তার কাজ দেখে বেজায় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ।
রাস্তার তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি যেসব নিয়ম মানার কথা, তা মানা হচ্ছে না বলেই ক্ষোভ প্রশাসনিক মহলের একাংশের। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে আম জনতা। একইসঙ্গে কাজের গতি এত কম কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাজা গুচ্ছাইত বলেন, ‘কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার মধ্যেই ভেঙেচুরে গিয়েছে রাস্তা। ক’দিন পরই আগের বেহাল অবস্থা ফিরে আসবে, এখনই বোঝা যাচ্ছে। খালি এক-দু’পশলা বৃষ্টি হতে দিন!’ কদম্বগাছির শামিম ইকবালের খেদ, ‘নতুন করে রাস্তায় পিচ দেওয়া হবে জেনে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন তো দেখছি, আগের রাস্তাই ভালো ছিল! পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দীপক লাহিড়ি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। দ্রুত এই রাস্তা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।’