শ্যামল সেন, হলদিয়া: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যে নতুন প্রজাতির গেছো কাঁকড়ার সন্ধান পেলেন গবেষকরা। দেশে এই প্রথম নতুন প্রজাতির ওই কাঁকড়ার সন্ধান মিলেছে বলে গবেষকদলের দাবি। ওই প্রজাতির কাঁকড়া সুন্দরী, গেঁওয়া, গর্জনের মতো ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছের পাতা খেয়ে জীবন কাটায়। জোয়ারের সময় ওই নিরামিষাশী কাঁকড়ার দল গাছে চড়ে বসে। প্রায় ১৮-২০ ফুট অবধি উঁচুতে উঠে গাছের ডালে ঘুমোয়। প্রসিডিংস অব দ্য জুলজিক্যাল সোসাইটির আন্তর্জাতিকমানের পত্রিকা ‹স্প্রিংগার›-এ ওই নতুন প্রজাতির কাঁকড়ার সন্ধানের গবেষণাপত্র সদ্য প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণাপত্র ইতিমধ্যেই গবেষকমহলে সমাদৃত হয়েছে। ওই গেছো নিরামিষাশী কাঁকড়ার বিজ্ঞানসম্মত নাম ‹এপিসেসারমরা সিঙ্গাপোরেন্স›। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ওই কাঁকড়া মূল আবাসস্থল। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড সহ অন্যান্য দেশগুলিতে ওই কাঁকড়ার দেখা মেলে। কিন্তু ভারতবর্ষ থেকে প্রথমবার এই কাঁকড়ার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের একদল গবেষক সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে অনুসন্ধান চালিয়ে ওই কাঁকড়ার খোঁজ পেয়েছেন। ওই গবেষক দলে ছিলেন অধ্যাপক প্রীতিরঞ্জন পাহাড়ী, শুভ্রজ্যোতি দাস, মিতালি দাম ও শুভদীপ মাইতি। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক তন্ময় ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করে তাঁরা নতুন প্রজাতির কাঁকড়ার সন্ধান পেয়েছেন। নতুন প্রজাতির কাঁকড়া আবিষ্কার করে উচ্ছ্বসিত ওই গবেষকদল। ভারতের জীববিজ্ঞানী মহল ওই নতুন প্রজাতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। প্রীতিরঞ্জনবাবু বলেন, জীববিদ্যার গবেষণার ইতিহাসে তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করেছে এই আবিষ্কার। ওই কাঁকড়া সিঙ্গাপুরে ‹ভিনিগার ক্র্যাব› নামে পরিচিত। ম্যানগ্রোভ জাতীর গাছের শিকড়ে গর্ত করে বসবাস করে। গাছের পাতা, ফুল, পচা পাতা প্রভৃতি এদের খাদ্য। ভারতবর্ষে এর প্রথম সন্ধান পাওয়া গেল। ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রে এরা পুষ্টি পদার্থের আবর্তনে বিশেষ ভূমিকা নেয়।



