Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কন্যাশ্রীর জন্য পুনরায় আবেদনে অনীহা, ছাত্রীদের মধ্যে স্কুলছুট বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা

স্কুলছুট এবং বাল্যবিবাহ রুখতে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিল রাজ্য সরকার।

কন্যাশ্রীর জন্য পুনরায় আবেদনে অনীহা, ছাত্রীদের মধ্যে স্কুলছুট বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্কুলছুট এবং বাল্যবিবাহ রুখতে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আসার পর তা অব্যাহত রাখতে গেলে বছর বছর পুনরায় আবেদন বা রিনিউয়ালের দরখাস্ত দিতে হয় স্কুলের কাছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এক শ্রেণির ছাত্রীর মধ্যে এক্ষেত্রে ব্যাপক অনীহা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১০ হাজার ছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে রিনিউয়াল করেনি বলে জানা গিয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্বভাবতই উদ্বেগ বাড়িয়েছে জেলা আধিকারিকদের। তাহলে কি এত সংখ্যক ছাত্রী স্কুল ছেড়ে দিয়েছে? নাকি পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? এনিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এই জেলায় স্কুলস্তরে কন্যাশ্রী (কে ওয়ান) প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। বিগত অর্থবর্ষে বিভিন্ন ক্লাসে যত ছাত্রীর আবেদন জমা পড়ার কথা ছিল, প্রথম থেকেই তার কমতি লক্ষ্য  করা যাচ্ছিল। একটা সময় প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার রিনিউয়াল ফর্ম বকেয়া ছিল জেলায়। তখন জেলার আধিকারিকরা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে খোঁজখবর করেন। তখন তাঁরা জানতে পারেন, অনেকেই ইতিমধ্যে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক ছাত্রীকে বুঝিয়ে আবার স্কুলমুখী করা গেলেও সবাইকে শিক্ষার চৌহদ্দির আওতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শিক্ষাবর্ষের শেষে চূড়ান্ত হিসেব করে জানা যায়, গোটা জেলাতেই  বড় সংখ্যক ছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক অবশ্যই। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা সত্ত্বেও এক শ্রেণির ছাত্রী রিনিউয়ালে আগ্রহ দেখায়নি।’ 
বিভিন্ন ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রীদের একটা অংশ নাবালিকা অবস্থাতেই পালিয়ে বিয়ে করে নিচ্ছে। অথবা বাবা-মা পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ায় তাদের সঙ্গে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছে।  কারণ যা-ই হোক না কেন, এই প্রবণতা ঠেকাতে অবিলম্বে সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেষ্ট হওয়া দরকার বলে মনে করছে শিক্ষক মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ