Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

মেলেইনি রাজ্যের আইনি সহায়তা, সাতের বদলে ১৬ বছরে জেলমুক্তি

সাত বছরের জায়গায় ১৬ বছরের জেল! পেটের জ্বালায় পা দিয়েছিলেন অপরাধের হাতছানিতে। অপহরণ করেছিলেন রাজারহাটের এক আইটি কর্মীকে। চেয়েছিলেন ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ।

মেলেইনি রাজ্যের আইনি সহায়তা, সাতের বদলে ১৬ বছরে জেলমুক্তি
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সাত বছরের জায়গায় ১৬ বছরের জেল! পেটের জ্বালায় পা দিয়েছিলেন অপরাধের হাতছানিতে। অপহরণ করেছিলেন রাজারহাটের এক আইটি কর্মীকে। চেয়েছিলেন ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ। কিন্তু ধরা পড়ে খেটেছেন জেল। তবে যে অপরাধের সাজা সাত বছর পর্যন্ত হওয়ার কথা, রাজ্য সরকার লিগ্যাল এইডের সাহায্য না দেওয়ায় কারাগারেই কেটে গেল ১৬ বছর। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মিলল মুক্তি। মামলারও হল নিষ্পত্তি। 

Advertisement

যদিও চমকপ্রদ এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠল, কেন গরিব অপরাধীকে আইনি লড়াই লড়ার জন্য বিনামূল্যে আ‌ইনজীবী দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার? আইন মোতাবেক যা পাওয়ার কথা যেকোনো অভিযুক্তের। বিষয়টি নিয়ে ২০২৫ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে চলছে মামলা।  অপরাধীর আইনজীবী স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই মিলল নির্দেশ। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করে ট্যাক্সি চালক সঞ্জয় পালের মুক্তির নির্দেশ জারি করলেন রাজ্যপাল। সঙ্গে আরও দুই অভিযুক্তকেও আগামী দিনে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। সংবিধান অনুচ্ছেদ ২১ মোতাবেক জীবন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ। 
 সঞ্জয় পাল ট্যাক্সি চালিয়েও স্বচ্ছল জীবন গুজরান করতে পারছিলেন না। তাই মাথায় ঢোকে অপহরণের পরিকল্পনা। অপহৃত আইটি কর্মী সন্দীপন দাসের সঙ্গে অবশ্য কোনো দুব্যর্বহার করা হয়নি। ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল। তবে দু’ লক্ষ পেয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি, সন্দীপনকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয় ৪০০ টাকা। ফিরিয়ে দেওয়া হয় ল্যাপটপ, মানিব্যাগ। 
ঘটনা ২০১০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির। সেদিন রাজারহাটে আইটি সেক্টরের কর্মী সন্দীপন সহকর্মী সৌরভ বৈদ্যকে গাড়ি করে সামান্য এগিয়ে দিতে বলেন। ডিএলএফ বিল্ডিং পেরিয়েই সন্দীপন দেখেন একটি ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। সেটিতে উঠে পড়েন। তখনই চালক সঞ্জয় পালের মাথায় আসে ফন্দি। হেল্পার এবং আরও একজন মিলে সন্দীপনকে অপহরণ করে। যদিও দুদিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ গ্রেপ্তার করে তিনজনকে। উদ্ধারও হয় ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয় সঞ্জয় সহ তিনজনই। সেই থেকে সংশোধনাগারে। সুপ্রিম কোর্টে সঞ্জয়ের আইনজীবীর দাবি, অপরাধ করলে সাজা পেতেই হবে। কিন্তু এই অপরাধের সাজা যাবজ্জীবন হতে পারে না। কিন্তু রাজ্য সরকার লিগ্যাল এইড না দেওয়ায় লঘু পাপে গুরুদণ্ড।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ