দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি কার্যত শিকেয় উঠেছে? আপাতত এই প্রশ্ন ঘিরেই তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, মোদি সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় নজরদারির সংখ্যা ক্রমেই কমছে। বিশেষ করে ২০১৪-২০১৮ এবং ২০১৯-২০২১ পর্বে ক্রমান্বয়ে কমেছে নজরদারি। ফলে দেশের একাধিক কলকারখানা শ্রমিক-কর্মচারীদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অথচ ১৯৪৮ সালের ফ্যাক্টরি আইন অনুসারে কলকারখানায় এহেন নজরদারি চালানো বাধ্যতামূলক। প্রত্যাশিত কারণেই এই খতিয়ানে রীতিমতো উদ্বিগ্ন তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
সোমবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন মিম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তারই লিখিত জবাবে উল্লিখিত পরিসংখ্যান পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে। যদিও লিখিত জবাবে একপ্রকার সাফাই দিয়েই কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশব্যাপী করোনা মহামারির কারণে কলকারখানায় নজরদারির সংখ্যা কিছু কম হতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সময়সীমায় নজরদারির সংখ্যা কম হল কেন, সেই প্রশ্ন উঠছে।
কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালে সারা দেশে বিভিন্ন কলকারখানায় নজরদারির সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৫২টি। ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে তা ক্রমান্বয়ে কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১ লক্ষ ১১ হাজার ১৫০, ১ লক্ষ ১ হাজার ৫৪৯ এবং ৮১ হাজার ৭৯১। ২০১৮ সালে এই সংখ্যাটি আরও কমে হয় ৮০ হাজার ৬৫০। অন্যদিকে, ২০১৯-২১ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে বোঝা যাচ্ছে, একইভাবে কমেছে নজরদারির সংখ্যা। ২০১৯ সালে ৮৭ হাজার ৭৭১টি, ২০২০ সালে ৬৬ হাজার ৬৩টি এবং ২০২১ সালে ৪৭ হাজার ১২৫টি কারখানায় নজরদারি চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এদিন তৃণমূল সাংসদ মালা রায় সহ বিভিন্ন দলের ১৩ জন সাংসদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে লোকসভায় কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে যে তথ্য দিয়েছেন, তাতেও চোখ কপালে উঠেছে বিশেষজ্ঞ মহলের। তাতে দেখা যাচ্ছে, আবাস সংক্রান্ত শ্রমিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে একজনও পরিষেবা পাননি। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সংক্রান্ত শ্রমিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বিগত ১০টি আর্থিক বছরে উপভোক্তার সংখ্যা সারা দেশে লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে।