


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইডির হাতে ধৃত জীবনকৃষ্ণ সাহা নিয়োগ দুর্নীতির টাকা কীভাবে পাচার করেছেন, তার রুট খুঁজছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। একজন প্রাথমিক শিক্ষক হয়েও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা এল কীভাবে, সেটাই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। এই টাকা দুর্নীতি করে আসা বলেই সন্দেহ করছেন তাঁরা। পাশাপাশি বিধানসভায় বড়ঞার বিধায়কের যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার লেনদেন নিয়েও কাটাছেঁড়া চলছে। এদিকে জীবন-ঘনিষ্ঠ দুই এজেন্টকে বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে নেমে ইডি জেনেছে—প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের জন্য রেট বেঁধে দিয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। এজেন্সি দাবি করেছে, তাঁর মোবাইল ঘেঁটে তারা জেনেছে, এর জন্য রেট ছিল আট থেকে কুড়ি লক্ষ টাকা পর্যন্ত। সর্বনিম্ন রেট ছিল গ্রুপ ডি পদের জন্য। কোন এজেন্ট কত টাকা পাঠিয়েছে এবং কোন পোস্টের জন্য তার তালিকা বিধায়কের মোবাইলে ছিল। সেখানেই রেটের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে খবর। ইডি সূত্রের খবর, তাঁর মোবাইলে ৩৮০০ চাকরি প্রার্থীর নামের তালিকা মিলেছে। তাঁদের সকলেরই চাকরি হয়েছিল বলে এজেন্সি জেনেছে।
ইডির কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ দুর্নীতি করে কয়েক লক্ষ টাকা রোজগার করেছেন বিধায়ক। এই টাকা এজেন্টরা তাঁকে নগদে ও অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে জীবন নিজের অ্যাকাউন্ট ছাড়াও স্ত্রী, পিসি-সহ অন্য একাধিক আত্মীয়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন বলে ইডি তাঁদের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট থেকে জেনেছে। এজেন্সির কর্তাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে যেভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢুকেছে তার থেকে অনুমান করা হচ্ছে, এটা নিয়োগ দুর্নীতির টাকা। বিশেষত তাঁরা কেউই চাকরি বা লক্ষাধিক টাকার টার্নওভার রয়েছে এমন ব্যবসা করেন না। তবে নগদে যে টাকা পেয়েছেন জীবনকৃষ্ণ, সেটি কীভাবে তিনি পাচার করেছেন সেই রুট খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা।
এই বিষয়ে বিধায়ককে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য তিনি গোটা বিষয়টিই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে ইডির দাবি, নগদ টাকা বিভিন্ন এজেন্ট মারফত আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়েছেন জীবনকৃষ্ণ। এরপর তাই দিয়ে বেনামে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে তথ্য জোগাড় করছেন অফিসাররা।