Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘দিল্লিতে ফের ভোট করান, বিজেপি ১০টির বেশি আসনে জিতলে রাজনীতি ছেড়ে দেব’, মোদিকে চ্যালেঞ্জ কেজরির

আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে মুক্তি পেয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

‘দিল্লিতে ফের ভোট করান, বিজেপি ১০টির বেশি আসনে জিতলে রাজনীতি ছেড়ে দেব’, মোদিকে চ্যালেঞ্জ কেজরির
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে মুক্তি পেয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে আম আদমি পার্টি (আপ) সুপ্রিমো খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন বিজেপি নেতৃত্বকে। বললেন, ‘ আজ মোদিজিকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি। আপনার সাহস থাকলে দিল্লিতে ফের ভোট করান। দেখুন কী হয়। বিজেপি ১০টির বেশি আসনে জিতলে রাজনীতি ছেড়ে দেব আমি। দিল্লির মানুষ আপনাদের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন।’

Advertisement

কেজরিওয়াল ক্লিনচিট পাওয়ার পর নাম না করে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন স্ত্রী সুনীতাও। তাঁর তোপ, শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। আদালতের নির্দেশে এদিন দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন আপের আরও এক শীর্ষনেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিশোদিয়া। আদালতের রায়ের পর এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ও তাদের এজেন্সিগুলি আমাদের অসৎ প্রমাণে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল। তা সত্ত্বেও আজ প্রমাণিত হল, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিশোদিয়া সম্পূর্ণ সৎ। সত্যমেব জয়তে।
কেজরিওয়াল, সিশোদিয়ার মতোই দিল্লির আবগারি দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছিল তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা কে কবিতারও। জেলে যেতে হয়েছিল তাঁকেও। অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কবিতা এদিন বলেন, যেদিন আমাকে জেলে নিয়ে গেল, আমার ছোটো ছেলে তখন মধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। বিনা কারণে আমাকে, আমার পরিবার ও সন্তানদের কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি শুধুমাত্র একটি বিষয় প্রমাণ করতে চেয়েছিল, আমাদের সঙ্গে না থাকলে তুমি আমাদের প্রতিপক্ষ। আজকের এই জয় আমাদের গোটা দেশের। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী তথা আপের অন্যতম শীর্ষনেতা ভগবন্ত মানের প্রতিক্রিয়া, আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণেদিত ভিত্তিহীন মামলা। কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের তরফেও। তাঁর তোপ, কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যূনতম লাজলজ্জা নেই। বিরোধী নেতানেত্রীদের ‘রাজনৈতিক শিকার’ বানাতে সিবিআই, ইডির মতো তদন্তকারী এজেন্সিগুলির সততাকে ‘বন্ধক’ রাখা হচ্ছে। তৃণমূল নেত্রী তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, সিবিআই ভৎর্সনা করার উপযুক্ত বলেই আদালত ওদের ভৎর্সনা করেছে। বিচার ব্যবস্থা সবার উপরে। বিজেপি চেয়েছিল বিচার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু সেটা করতে পারেনি ওরা। অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। 
এই ইস্যুতে কংগ্রেস আবার পরোক্ষে বিজেপি-আপ সেটিং তত্ত্ব ভাসিয়ে দিয়েছে। বিজেপিকে ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’ বলে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের তোপ, গুজরাত ও পাঞ্জাব ভোটের কথা মাথায় রেখে এটা ‘পূর্বানুমানযোগ্য চিত্রনাট্য’। যদিও সতর্ক প্রতিক্রিয়া এসেছে বিজেপি শিবির থেকে। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি এই ইস্যুতে বলেন, আইন ও আদালত নিজেদের কাজ করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ