ইম্ফল: ভারতীয় নাট্যজগতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব রতন থিয়াম। বুধবার ৭৭ বছর বয়সে শিল্পীর জীবনাবসান হয়। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। রতন থিয়ামের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, গৌরব গগৈ সহ অনেকে।
‘থিয়েটার অব রুটস’ বিপ্লবের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন রতন। মণিপুরের সংস্কৃতিকে সারা ভারত তথা বিশ্বের দরবারে নাটকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ‘চক্রব্যূহ’, ‘উত্তর প্রিয়দর্শী’, ‘অন্ধযুগ’, ‘ঋতুসংহারম’-এর মতো নাটক তৈরি করেছেন। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যকে নাট্যমঞ্চে উপস্থাপিত করতেন তিনি। পাশাপাশি, বহু নাটকও পরিচালনা করেছিলেন রতন। মার্শাল আর্টকে ভিন্ন আঙ্গিকে নাটকে ব্যবহার করেছিলেন।
১৯৪৮ সালে রতন থিয়ামের জন্ম। দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে ১৯৭৪ সালে স্নাতক হন তিনি। নাট্য জগতে অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৮৯ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করা হয়। ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব সামলেছিলেন রতন। কিছুদিন সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যান পদেও ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে দেশের নাট্যজগৎ শোকস্তব্ধ। শিল্পীর প্রয়াণে এক শোকবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘রতন থিয়ামের প্রয়াণে আমি শোকস্তব্ধ। মণিপুরের নাটককে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন তিনি। তাঁর হাত ধরে ঐতিহ্যের সঙ্গে পারফর্মিং আর্টের মিশেল ভারতীয় নাট্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে। ওঁনার পরিবার, বন্ধু এবং অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’