Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আম-স্ট্রবেরি-পুদিনা-লঙ্কা, হরেক স্বাদ-গন্ধের মিশেলে আগামী কাল রসগোল্লা দিবস উদযাপন

হালকা স্বচ্ছ রসে ভেসে থাকা তুলতুলে নরম ছানার গোল্লা দিয়ে শতকের পর শতক ধরে বিশ্বের মন জয় করেছে বাঙালি।

আম-স্ট্রবেরি-পুদিনা-লঙ্কা, হরেক স্বাদ-গন্ধের মিশেলে আগামী কাল রসগোল্লা দিবস উদযাপন
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হালকা স্বচ্ছ রসে ভেসে থাকা তুলতুলে নরম ছানার গোল্লা দিয়ে শতকের পর শতক ধরে বিশ্বের মন জয় করেছে বাঙালি। রসগোল্লার সঙ্গে মিশে গিয়েছে বাঙালির ঐতিহ্য। সেই কুলীন মিষ্টি দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর জিআই স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছিল। ফি বছর শিশু দিবসের পাশাপাশি এই দিনটি বাঙালির কাছে রসগোল্লা দিবসও বটে। হোক না, ওই দিনই বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। রসগোল্লার সঙ্গে তার কোনও শত্রুতা নেই। অভিনব স্বাদের হরেক রসগোল্লা দিয়ে আগামী কাল উদযাপনে মাততে চলেছে শহর ও শহরতলির ভিয়েনঘরগুলি। কোথাও রাস্তায় ৩০ হাজার রসগোল্লা দিয়ে বিনামূল্যে মিষ্টিমুখের আয়োজনও হচ্ছে।

Advertisement

১৪ নভেম্বরে ১৪ রকমের রসগোল্লা দিয়ে দিনটি উদযাপনের পরিকল্পনা করেছে কে সি দাশ। তালিকায় আছে চিরন্তন সাদা রসগোল্লার সঙ্গে পেস্তা, কমলা, ব্ল্যাক কারেন্ট, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, কেশর, গন্ধরাজ, বাটারস্কচ, আনারস, আম, চকোলেট, গুড় আর সুগার ফ্রি’র মতো রকমফের। সংস্থার কর্ণধার ধীমান দাশের কথায়, সারা বছর রসগোল্লা পাওয়া গেলেও, এই দিনে ক্রেতাদের উৎসাহ থাকে চোখে পড়ার মতো। ১৯৭২ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সারদাচরণ দাশ প্রথমবার যে সুগার ফ্রি মিষ্টির প্রচলন করেছিলেন, রসগোল্লাতেও সেই অভিনবত্ব জারি রেখেছি আমরা।
গার্ডেনরিচ এলাকার শতাব্দী প্রাচীন প্রতিষ্ঠান সতীশ ময়রা’তেও ১৪ রকমের রসগোল্লা দিয়ে উৎসবের আয়োজন হচ্ছে। এখানকার কর্ণধার অরূপকুমার দাসের কথায়, একদিন ধনতেরাস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে’র মতোও এই দিনটি নিয়েও মাতবে মানুষ। রসগোল্লায় কাঁচালঙ্কা, পুদিনার স্বাদ-গন্ধ নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রেতারা দারুণ উৎসাহিত। শারীরিকভাবে পিছিয়ে থাকা শ’পাঁচেক শিশু ও বয়স্ক মানুষকে রসগোল্লা খাইয়ে দিনটি স্মরণীয় করতে চায় তারা। এমনই সামাজিক কর্মসূচির ইচ্ছা রয়েছে হাওড়ার ব্যাতাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের। এখানকার কর্ণধার সৈকত পালের কথায়, অন্তত ১০ রকমের রসগোল্লা রাখছি আমরা। তার মধ্যে ক্যাপসিকামের চাহিদা তুঙ্গে। সঙ্গে রয়েছে চিজ বেকড রসগোল্লা।
হুগলিতে এবারও রসগোল্লা নিয়ে হইচই ফেলতে চাইছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। কোন্নগরের কালীমাতা সুইটসের বেকড রসগোল্লা বা কমলাভোগের মতো মিষ্টির পাশাপাশি থাকছে  নতুন গুড়ের রসগোল্লা এবং টু-ইন-ওয়ান। কাঁচালঙ্কার রসগোল্লা নিয়ে যে ক্রেতাদের মধ্যে উৎসাহ থাকে, তা জানিয়েছেন এখানকার কর্ণধার স্বরূপ দত্ত। তিনি বলেন, আমরা হুগলির ব্যবসায়ীরা চুঁচুড়ার ঘড়িমোড়ে হাজির থাকব রসগোল্লা নিয়ে। স্বতন্ত্র হুগলি মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির চেয়ারম্যান অমিতাভ দে’র কথায়, আমাদের প্রতিষ্ঠান ফেলু মোদক চকোলেট, কেশর সহ নানা ফ্লেভারের রসগোল্লা যেমন রাখবে, তেমনই একশো’র উপর মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী একযোগে প্রায় ৩০ হাজার রসগোল্লা বিনামূল্যে খাওয়াবেন ঘড়িমোড়ের পথচলতি মানুষকে। পুলিশ-প্রশাসনও আমাদের দারুণ সাহায্য করছে। বিধায়ক অরিন্দম গুঁই আমাদের এই উদ্যোগে বিশেষভাবে সহায়তা করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ