এলাহাবাদ: সম্পর্কে ‘ব্রেকআপ’ হলে বা জটিলতা দেখা দিলেই তাতে ফৌজদারি অপরাধের রং দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এই যুক্তি দিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে জামিন দিয়ে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ৪২ বছরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন ২৫ বছরের এক তরুণী। তরুণী তাঁর অভিযোগে বলেছিলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিবাহের কথা লুকিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেন। পরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। অভিযুক্ত আরও কয়েকজন মহিলার সঙ্গেও একইভাবে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলেও দাবি করেন ওই তরুণী।
সওয়াল-জবাব শেষে ৯ এপ্রিল বিচারপতি কৃষ্ণণ পাহালের সিঙ্গল বেঞ্চ জানায়, সব শুনে এই ঘটনাকে ধর্ষণের থেকেও ‘ব্রেকআপ’ পরবর্তী সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভেঙে গেলেই আইন প্রয়োগ করে তাকে অপরাধের তকমা দেওয়া হচ্ছে। তাই অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। আদালত আরও জানায়, ওই সম্পর্কে তরুণীরও সম্মতি ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে বিবাহিত, তা আগেই জানতেন ওই মহিলা।
সাম্প্রতিক সময়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একাধিক নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত মার্চে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, শুধু নাবালিকার বুকে হাত দিলেই বা পাজামার দড়ি খুললে, তাকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা বলা যায় না। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। গত মাসেও এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তকে জামিন দিয়ে জানিয়েছিল, নির্যাতিতা ছাত্রী নিজেই বিপদ ডেকে এনেছেন ও ঘটনার জন্য তিনিও দায় এড়াতে পারেন না। এরপর ফের এক ধর্ষণে অভিযুক্তকে জামিন দিল হাইকোর্ট।