সম্প্রতি এই আশ্রমের উদ্বোধন হয়ে গেল। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণের গ্রাম্য নিরক্ষর সন্তান লাটু মহারাজ, স্বামী অদ্ভুতানন্দজীর পুণ্যস্মৃতি-স্মারক এই আশ্রম। এই উপলক্ষে আমি হিন্দিতেই ভাষণ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছাপড়া রামকৃষ্ণ অদ্ভুতানন্দ আশ্রমের সম্পাদক, অধ্যাপক কেদারনাথ লাভের অনুরোধে বলতে হলো ইংরেজীতে। আজ হিন্দিতেই বলব।
নানা ভাষার এই দেশ, আমাদের ভারতবর্ষ। এখানে প্রত্যেক প্রদেশের নিজস্ব ভাষা আছে। তাই ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে তাদের নির্দিষ্ট ভাষাতেই কথা বলতে হবে। যেমন কেরালাতে গেলে বলতে হবে মালয়ালাম ভাষা, তামিলনাড়ুতে তামিল, কর্ণাটকে কানাড়া, বাংলাতে বাংলা, আর এখানে—বিহারে বলব হিন্দিই। সমস্ত ভাষাই আমাদের ভাষা, আমাদের মাতৃভূমির ভাষা। ভাষার ভিন্নতা সত্ত্বেও সংস্কৃতি কিন্তু একটাই। নানা ভাষার মাধ্যমে আমরা ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেই তুলে ধরি।
এই মাত্র আপনাদের বিধায়ক উদিত রায়ের কাছ থেকে আশ্রমটির জন্মবৃত্তান্ত শুনলেন। কিভাবে এটি বহুবিধ বাধা অতিক্রমের মধ্য দিয়ে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনী আপনাদের আনন্দবর্ধন করেছে। আপনারা শুনে নিশ্চয়ই উৎসাহিত হবেন যে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে মঠ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় সাহায্য করেছে রাজ্যসরকার। বিহারে যার অভাব দেখা গেছে। বছর আঠারো আগে অন্ধ্র সরকারের খুব অল্পসংখ্যক মন্ত্রী ও আমলা ছিলেন যাঁরা শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে অল্প কিছু জানতেন। এ সত্ত্বেও একদিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী শ্রীবেঙ্গল রাও স্বয়ং দেখা করতে আসেন ও আশ্রমের জন্য জমি অনুমোদনের এক লিখিত আবেদনপত্র আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। পাঁচমাসের মধ্যে শহরের প্রায় মধ্যস্থলে আশ্রমের জন্য পাঁচ একর জমি পাওয়া গেল। কোন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি। সাধারণত এই ধরনের ঘটনা ঘটতে সময় লাগে দশবছর সেখানে মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে রাজ্য সরকার আশ্রমকে জমি হস্তান্তরিত করে। আশ্রম উন্নয়নের জন্য তেত্রিশ লক্ষ টাকার একটি পরিকল্পনা করা হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই তার দুই-তৃতীয়াংশ ব্যয়ভার বহন করব। তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ কেন সমস্তটাই আমরা বহন করব। এ তো অত্যন্ত গর্বের কথা যে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী হায়দ্রাবাদে স্বামী বিবেকানন্দের নামে একটি আশ্রম হতে চলেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমি আপনার আর কি সাহায্যে আসতে পারি? আমি বলি, আগামীকাল মহাকরণে গিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই। তিনি বলেন, না আপনি আসবেন কেন, তারাই এসে আপনার সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনা করবে, আমি তাদের পাঠিয়ে দেব।
স্বামী রঙ্গনাথানন্দের ‘গৃহস্থ ধর্ম’ থেকে