Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মিলছে না তৎকাল টিকিট, ভোট  আবহে নাজেহাল রেল যাত্রীরা! চিন্তা বাড়াচ্ছে ‘হজমোলা গ্রুপ’

জেনারেল কোটায় ট্রেনের টিকিট পাওয়া তো দূর অস্ত! এমনকি মিলছে না তৎকাল টিকিটও। ফলে নির্বাচনি আবহে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ রেল যাত্রীদের।

মিলছে না তৎকাল টিকিট, ভোট  আবহে নাজেহাল রেল যাত্রীরা! চিন্তা বাড়াচ্ছে ‘হজমোলা গ্রুপ’
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জেনারেল কোটায় ট্রেনের টিকিট পাওয়া তো দূর অস্ত! এমনকি মিলছে না তৎকাল টিকিটও। ফলে নির্বাচনি আবহে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ রেল যাত্রীদের। তাঁদের একটি বড়ো অংশের অভিযোগ, তৎকালের ‘বুকিং উইন্ডো’ খোলার মিনিট দু’য়েকের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে সমস্ত টিকিট। এক্ষেত্রে হয় দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্ট দেখানো হচ্ছে, নাহলে ‘রিগ্রেট’ বা ‘নো রুম’ ফুটে উঠছে স্ক্রিনে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নিয়মমতো আইআরসিটিসির ওয়েবসাইটে নিজের ইউজার আইডির সঙ্গে আধার যাচাই করানো থাকলেও অনেক সময় তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের মুহূর্তে ফের ‘ভেরিফিকেশন’ চাওয়া হচ্ছে। আর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে কনফার্মড টিকিট আর পাচ্ছেন না যাত্রীরা। 

Advertisement

এবিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল। তাদের আশঙ্কা, সম্ভবত আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। অর্থাৎ, রেলে ‘ডিজিটাল দালালরাজ’ খতমের যে প্রতিশ্রুতি ইতিপূর্বে দেওয়া হয়েছে, তা একপ্রকার কাগজে কলমেই থেকে গিয়েছে। রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রেও এসংক্রান্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এহেন প্রেক্ষিতে আরপিএফের গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ। তার নাম ‘হজমোলা’। এই হজমোলা গ্রুপের সদস্যরা ‘টার্গেট’ রেল যাত্রীদের মাথাপিছু বাড়তি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় নিশ্চিত কনফার্মড টিকিটের আশ্বাস দিচ্ছে। প্রধানত হোয়াটস অ্যাপ এবং টেলিগ্রামে রীতিমতো রমরমিয়ে চলছে এই ‘হজমোলা গ্রুপে’র অসাধু কারবার। অথচ তাদের নাগাল পেতে নাজেহাল রেল আধিকারিকরা। ফলে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 
ট্রেনের এসি ক্লাসে তৎকাল টিকিটের বুকিং উইন্ডো খোলা হয় সকাল ১০টায়। নন-এসি ক্লাসে তা চালু হয় সকাল ১১টায়। আইআরসিটিসির নথিভুক্ত এজেন্টদের বুকিং উইন্ডো খোলার ৩০ মিনিট পর থেকে টিকিট কাটার অনুমতি মেলে। এরই পাশাপাশি রয়েছে ওটিপি এবং এককালীন আধার যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও। রেলের যুক্তি, অবৈধ বুকিং বন্ধ করতেই এহেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে যে কাজের কাজ বিশেষ হচ্ছে না, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। অন্তত এমনই অভিযোগ রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের। যাচাই হয়ে থাকা সত্ত্বেও আধার রি-ভেরিফিকেশনের সমস্যা তো আছেই। বুকিংয়ের সময় নির্ধারিত ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) আসতেও অনেক সময় কয়েক মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ওই সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে যাবতীয় তৎকাল কোটার টিকিট। রেল অবশ্য একই চর্বিতচর্বণ করে জানিয়েছে, টাকা কেটে নেওয়ার পরেও যদি টিকিট বুকিং না হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই তা ফেরত পাবেন যাত্রীরা!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ