সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: কিছুই বললেন না, অথচ বুঝিয়ে দিলেন অনেক কিছু! ইডেনের বাইশ গজ নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক অজিঙ্কা রাহানে। হোম অ্যাডভান্টেজ যে কার্যত উধাও, পরিষ্কার নাইট রাইডার্স অধিনায়কের শরীরী ভাষায়। মঙ্গল-সন্ধ্যায় করমর্দনের দূরত্বে পৌঁছেও জয় হাতছাড়া হওয়ার পর ব্যতিক্রমী মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। আপশোস, হতাশা, যন্ত্রণা মিলেমিশে একাকার শব্দচয়নে। প্রেস রাহানের গলায় ফুটে উঠল তীব্র জ্বালা, ‘বল তো একেবারেই ঘুরছে না। সকলে দেখতেই পাচ্ছেন। আর নতুন করে কী বলব? যদি মুখ খুলি তো শোরগোল পড়ে যাবে। এমনিতেই পিচ নিয়ে বিতর্ক চরমে। ফের কিছু বললে ইডেনের কিউরেটর আরও পাবলিসিটি পেয়ে যাবেন। দরকার নেই। হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে যেখানে বলার সেখানেই সবকিছু জানাব। আইপিএল কমিটিকে মতামত দেব। আর আপনারা যা দেখলেন সেটাই না হয় লিখবেন।’ রাগ, ক্ষোভ ঠিকরে বেরিয়ে এল প্রতিটা শব্দে।
একটু আগে ব্যাট হাতে দেখা দিয়েছিল রণংদেহি মূর্তিতে। সুনীল নারিনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটের ধুমধাড়াক্কা জুটিতে জয়ের স্বপ্ন উস্কে দিয়েছিলেন তিনি। ৬ ওভারে উঠে গিয়েছিল ৯০। মুম্বইকরের পঞ্চাশ এসেছিল মাত্র ২৬ বলে। চোখ কচলে শুরু হয়েছিল চর্চা, এ কোন রাহানে? হয়তো সেজন্যই চোখের সামনে নিকোলাস পুরানদের উৎসবে মেতে ওঠা হজম করতে পারছেন না।
উল্টোদিকের আর এক ক্যারিবিয়ান বিগহিটারই তা প্রমাণ করলেন। পুরানের ধুন্ধুমারের সামনে নাইট বোলারদের ইকনমি রেটের বারোটা বাজল। স্পেন্সার জনসন, হর্ষিত রানা থেকে নারিন-রাসেল, কেউ ওভারপ্রতি খরচা করলেন ১৫-১৬ রান, কেউবা সামান্য কম! মোট ১৫টা ছক্কা মারলেন লখনউ ব্যাটসম্যানরা। তার মধ্যে পুরানেরই আটটা। কেকেআর বোলিংকে যেন মশলাবিহীন, মাংসহীন বিরিয়ানিতেই নামিয়ে এনেছিলেন তিনি!
যতই একটা বাউন্ডারির ব্যবধানে পরাজয় হোক, এই পরাজয় তুলে দিল অনেক অপ্রিয় প্রশ্ন। কুইন্টন ডি’কককে আর কতদিন টানা হবে? রামনদীপ, রঘুবংশী, রাসেল— মিডল অর্ডার কি এভাবেই হতাশা উপহার দেবে? বিপক্ষ ওপেনাররা মারমার কাটকাট মেজাজে থাকলে তাদের থামানোর ‘প্ল্যান বি’-ই বা কী? বিশেষ করে নারিনের মধ্যে রহস্য যখন কমেই চলেছে। জনসনের প্রতি এত আস্থার কারণই বা কী? রাহানে যতই বড় মুখ করে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলুন, অপ্রিয় প্রশ্নগুলো খোঁচাবেই।
আর পিচের দিকে আঙুল তুলে সত্যিই লাভ নেই। লখনউয়ের দিগবেশ রাঠি তো এই পিচেই নজর কাড়লেন। ‘রোল মডেল’ নারিনকে আউট করে সবুজ ঘাসে চেক কাটার ভঙ্গিতে সেলিব্রেশনে মাতলেন। নাচতে না পারলে উঠোন বাঁকা— এই অজুহাত এবার বন্ধ হওয়া দরকার। বোঝা উচিত, কোটিপতি লিগে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ ক্রমশ সোনার পাথরবাটির মতোই অলীক। উল্টোদিকে, বিরাট বা ধোনি থাকলে ঘরের মাঠই চলে যায় বিপক্ষে!