Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মূলস্রোতে ফিরতে অবলম্বন রবীন্দ্র ও নজরুল, দোলে গান মহিলা বন্দিদের

মূলস্রোতে ফিরতে অবলম্বন রবীন্দ্র ও নজরুল, দোলে গান মহিলা বন্দিদের
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ‘কারার ঐ লৌহ কপাট...’ বিদ্রোহী কবি নজরুল ‌ইসলামের কালজয়ী সেই গান বাঙালির অন্তরে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। সংশোধনাগারে বন্দি থেকেও বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে যাওয়া নজরুলের জেলা আসানসোল সংশোধনাগারেই শুরু হল সংগীত সাধনা। মহিলা বন্দিদের রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সংগীত শেখানোর জন্য আসছেন সংগীত শিল্পী। সপ্তাহে একদিন করে শিক্ষিকা এলেও প্রতিদিন নিয়ম করে গানের রেওয়াজ করছেন মহিলা বন্দিরা। সংশোধনাগারের দেওয়াল টপকে ভেসে আসছে ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও.. যাও গো এবার..’। আজ দোল উৎসবে আবাসিকরা নিজেদের মধ্যে আবির খেলে রঙিন হয়ে উঠবেন। নারীকণ্ঠের রবীন্দ্র নজরুলের গানে মুখরিত হবে সংশোধনাগার। সঙ্গে রয়েছে এলাহি খাওয়া দাওয়া। 

Advertisement

আসানসোল সংশোধনাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট চান্দ্রেয়ী হাইত বলেন, আমরা কিছুদিন হল সংশোধনাগারে মিউজিক ক্লাস শুরু করেছি। সংশোধনাগারে এসে শিল্পী বন্দিদের গান শেখাচ্ছেন। নারী দিবসে তাঁরা অনুষ্ঠানও করেছেন। দোলে সংশোধনাগারে খাওয়ার দাওয়ার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। 
সংশোধনাগারে বন্দি হয়েছেন কবি, সাহিত্যিক থেকে সাংবাদিক— সমাজের নানা স্তরের মানুষ। কখনও রাজনৈতিক বন্দি, কখনও রাজরোষে পড়ে কারাগার জুটেছে কপালে। কিন্তু লোহার কপাট তাঁদের সৃষ্টিকে বন্দি করতে পারেনি। তার বড় উদাহরণ নজরুল নিজে। আসানসোলের অদূরে চুরুলিয়ায় তাঁর জন্ম, আসানসোলের বেকারিতে কাজ করে কাটিয়েছেন জীবনের একটা সময়ে। সেই আসানসোল সংশোধনাগারেই শুরু হল সংগীতের তালিম। বন্দিদের জন্য আনানো হয়েছে হারমোনিয়াম। একটি বিশেষ কক্ষে ইচ্ছুক বন্দিদের আনা হয়। সেখানে বাইরে থেকে শিক্ষিকা এসে কারারক্ষীদের নজরদারিতে শেখান গান। এক মাসেই সংগীতের অআকখ শিখে নিয়েছেন অনেক বন্দি। কেউ কেউ আগে থেকেই গান জানতেন। তাঁরাও নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন। সংশোধনাগারে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন মহিলা বন্দি থাকেন। তাঁরা প্রায় সকলেই রবীন্দ্র-নজরুলকে আকঁড়ে ফিরতে চাইছেন সমাজের মূল স্রোতে। দোল উৎসবে তাঁরা গাইবেন কবিগুরুর ‘ওরে গৃহবাসী...’ থেকে নজরুলের ‘দে দোল...।’  
সংশোধনাগারের আতঙ্কের পরিবেশ দূরে সরিয়ে অনেকটা মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে দোল যে বিশেষ ভাবে উদযাপন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথমে বন্দিদের দিয়েই ভেষজ আবির তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। তা সফল না হলেও বাইরে থেকে আবির আনিয়েই দোল খেলা হবে। এছাড়া সেদিন মেনু বিশেষ আকর্ষণীয়। জানা গিয়েছে, দিনে ফ্রায়েড রাইস ও চিকেন কষা করা হচ্ছে। সঙ্গে থাকবে ফ্রুট চাটনি। রাতে রুটি ও  ঘুগনি। প্রায় চারশো জন বন্দির জন্য হচ্ছে এই বিশেষ আয়োজন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ