ঢাকা: গত বুধবারের ঘটনা। ঢাকার ভরা রাস্তায় পাথর দিয়ে থেঁতলে মারা হয় এক ব্যবসায়ীকে। ঘণ্টাখানেক তাণ্ডব চললেও ওই ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। শুধু এই ঘটনা নয়। গত এক বছরে বাংলাদেশজুড়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। অত্যাচার বেড়েছে সংখ্যালঘুদের উপর। বাংলাদেশেরই সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সারা দেশে ১ লক্ষ ৮ হাজারের বেশি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৫০৪টি খুন। এই সময়ে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন খুন হয়েছে। মহিলা ও শিশুদের উপর অপরাধের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। এছাড়া গত বছরের আগস্ট থেকে ১৫৮৭টি লুট, ৬৪৭টি ডাকাতি হয়েছে। পুলিস বেশিরভাগ ঘটনাকেই ‘অন্যান্য অপরাধ’ বিভাগে নথিভূক্ত করায় বিভিন্ন অপরাধের হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সোমবার পরিসংখ্যান দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিবৃতি জারি করে দাবি করেছে, বাংলাদেশে অপরাধের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর বড় ধরনের অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে-এমন দাবি ঠিক নয়। ওই পরিসংখ্যানের কয়েকটি তথ্যেও ইউনুসের সরকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ৪৯০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। আর চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসেই ৩৬৭টি ডাকাতি হয়েছে। ১০ মাসে খুন হতে হয়েছে ১৯৩৩ জনকে।



