নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ঘিরে সরগরম দেশীয় রাজনীতি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাল্টা কোনও কঠোর জবাব দেয়নি ভারত। প্রতিক্রিয়া না দিলেও মার্কিন রক্তচক্ষুকে যে নয়াদিল্লি কার্যত অগ্রাহ্য করছে, রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে সেই বার্তা স্পষ্টভাবে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবারই রাশিয়ার সিকিওরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারি সের্গেই সোইগুর সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকের পর স্থির হয়েছে, চলতি বছরেই ভারত সফরে আসবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
গত বুধবার অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করার এক্সিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে সামগ্রিকভাবে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক হতে চলেছে ৫০ শতাংশ। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে রাশিয়া থেকে ভারতের লাগাতার তেল কেনার দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে তেল কেনার জন্যই এই জরিমানা। বুধবার ট্রাম্পের ওই শুল্ক আরোপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নয়াদিল্লি বুঝিয়ে দেয়, আমেরিকার চাপে পিছু হটার সম্ভাবনাই নেই। বরং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি করার দিকেই অগ্রসর হচ্ছে ভারত। বৃহস্পতিবার মস্কোয় রাশিয়ার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এদিন বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে চলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের যথেচ্ছাচারী উপনিবেশবাদী বাণিজ্য মনোভাবের জেরে সমগ্র বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে চলেছে। রাশিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া, ভারত—একের পর এক দেশকে লাগাতার হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প। আরোপ করছেন অবাস্তব বাণিজ্য শুল্ক। অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন কূটনৈতিক অক্ষ। ভারত, রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে। অর্থাৎ ব্রিকস রাষ্ট্রগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে আবার রাশিয়া, চীন ও ভারতের মধ্যে শুরু হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ। আগস্টের শেষে চীনে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। জাপান থেকে ফেরার পথে। তার আগে, আগামী ১৮ আগস্ট চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়ান ই আসছেন ভারত সফরে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পাশাপাশি তিনি বৈঠক করবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। এই কর্মসূচির মধ্যেই সামনে এসেছে ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের কথা। একদিন আগেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা জানিয়েছেন, আগামী দিনের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে তিনি মোদিকে ফোন করে কথা বলবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুতিনের ভারত সফরের পরই অত্যন্ত প্রত্যাশিত যে নরেন্দ্র মোদিও মস্কো যাবেন। অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক কূটনীতির জেরে আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিশ্বের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, সেই রূপরেখা স্পষ্ট হবে। আবার এশিয়া ও ইউরোপের ক্ষমতার নতুন সমীকরণের কাঠামো নির্মাণও একটি অবয়ব পাবে।