Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মোদির আমন্ত্রণে সাড়া, ভারতে আসছেন পুতিন

গত বছর দু’বার রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রথমবার জুলাই মাসে। দ্বিতীয়বার অক্টোবরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে।

মোদির আমন্ত্রণে সাড়া, ভারতে আসছেন পুতিন
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: গত বছর দু’বার রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রথমবার জুলাই মাসে। দ্বিতীয়বার অক্টোবরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছিলেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। সেইসময় পুতিনকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। তাতে সাড়া দিল মস্কো। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন পুতিন। তিনি ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু, রুশ প্রেসিডেন্টের সফরের কোনও দিনক্ষণ জানাননি তিনি। সূত্রের খবর, দু’পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে খুব শীঘ্রই সফর সূচি ঠিক হবে। 

Advertisement

‘রাশিয়া ও ভারত: নয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথে’ শীর্ষক এক আলোচনার সভায় আয়োজন করেছিল রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক কাউন্সিল। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাভরভ জানান, গতবছর পুনর্নির্বাচিত হয়েই প্রথম বিদেশ সফরে রাশিয়া এসেছিলেন মোদি। এটা খুবই উল্লেখজনক ঘটনা। এবার আমাদের পালা। প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত সরকারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। সেই সফরের প্রস্তুতি চলছে। 
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করায় এদিন ভারত সরকার এবং বিশেষ করে মোদিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন লাভরভ। তিনি জানান, সংঘাতের মূল কারণকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে ভারত। সেইসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরাতেও উদ্যোগী হয়েছে নয়াদিল্লি। পুতিনের সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিসর বাড়ছে। এই অগ্রগতিতে বেশ কিছু বাধাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, সেগুলিকে আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি। ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬ হাজার কোটি ডলারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সম্প্রতিক ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। পুতিনের সফরে নয়াদিল্লি ও মস্কোর নয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূচনা হবে। এই অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, দু’দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানের ঐতিহ্যও দীর্ঘদিনের। বিশ্বে পরিবর্তনশীল আর্থ, সামাজিক, রাজনৈতিক পটভূমিতে তা আরও সুবিস্তৃত ও গভীর হয়েছে। 
সাম্প্রতিক সময়ে বারবার রাশিয়ার পাশে থেকেছে ভারত। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা ও ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি মস্কোকে একঘরে করতে উঠে পড়ে লেগেছিল। একাধিক নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়। বিশ্বমঞ্চে পুতিনের দেশকে প্যাঁচে ফেলতেও বারবার ভারতকে পাশে চেয়েছে তারা। এমনকি যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে তাতে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হয়নি নয়াদিল্লি। তেলও কিনেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ অবস্থানও বজায় রেখেছে। তারজন্য বারবার নয়াদিল্লির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মস্কো। এবার মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারতে এসে দু’দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পথেই এগচ্ছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ