সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: অবৈধ ‘টার্গেট লটারি’ নিয়ে এবার শাসক দল তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই লটারি বন্ধ করার বিষয়ে সরব হয়েছেন। কেউ কেউ আবার অবৈধ এই কারবার যাতে চালু থাকে সে বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়া শহর তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি। এই অবৈধ কারবারের জন্য দলেরই একাংশকেই দায়ী করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান।
প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া শহরে অবৈধ লটারির কারবারের খবর প্রকাশ হতেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। অনেকে এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টও করেন। একাধিক তৃণমূল নেতাও ওই অবৈধ লটারির কারবার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। বিষয়টি নিয়ে শহর তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেও তোলপাড় শুরু হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে শহর তৃণমূল কংগ্রেসের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও আলোচনা হয়। সেখানে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন পুরসভার চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি এই অবৈধ কারবার বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু, পরে দলের চাপেই ফের ওই কারবার চালুর জন্য পুলিশকেই অনুরোধ করতে হয়। এই অবৈধ লটারির কারবারিদের দলে যোগদান করানো হয়েছিল। চাঁদার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে শহরের বেকার যুবকদের এটাই কর্মসংস্থান বলে স্লোগান তোলা হয়েছিল। সংবাদপত্রে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর এখন দলের গ্ৰুপে পোস্ট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দলের সাংগঠনিক স্তরে আলোচনারও দাবি জানান তিনি।
এবিষয়ে নব্যেন্দুবাবু বলেন, গ্রুপে যা লিখেছি সত্যি কথায় লিখেছি। প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়ে ওই কারবার বন্ধ করেছিলাম। পরে আবার শুরু হয়ে যায়। আমি নিজেও চাইছি এই কারবার বন্ধ হোক। কিন্তু, প্রশাসনকে চাপ দিয়ে বন্ধ করা গেলেও বিষয়টা নিয়ে দলেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। যা বলার দল এবং প্রশাসনকে বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আর বিস্তারিত বলতে চাই না। এবিষয়ে পুরুলিয়া শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চেয়ারম্যান এতদিন কেন চুপ ছিলেন? এখন হঠাৎ কেন মুখ খুলছেন তা উনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে দলের চাপের কথা বলতে গিয়ে উনি তো দলের নিচুতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত সবাইকে জড়াতে চাইছেন। চেয়ারম্যানের উচিত দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার। কাজলবাবু আরও বলেন, দলের কে বা কারা তাঁকে কখন চাপ দিয়েছিল জানি না। আর ওই চাপে পড়ে তিনি অন্যায় কাজ মুখ বুজে সহ্য করেছিলেন কোন স্বার্থে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। যাঁরা তাঁকে চাপ দিয়েছিলেন, চেয়ারম্যান তাঁদের বলুন। এভাবে দলের বদনাম করা যায় না।