নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকেও গোটা রাজ্যের মধ্যে পাশের নিরিখে সবার শীর্ষে পূর্ব মেদিনীপুর। জেলায় পাশের হার ৯৫.৭৪শতাংশ। পাশের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৯৩.৫৩ শতাংশ) ও তৃতীয় কলকাতা (৯৩.৪৩শতাংশ)। এবছর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য মোট ২৯হাজার ৭১৭জন ফর্ম ফিলআপ করেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় বসেন ২৯হাজার ৪৩৯জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৮হাজার ১৮৬জন। মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকেও ছাত্রছাত্রীরা এই জেলার মুখ উজ্জ্বল করলেন।
মেধা তালিকায় পূর্ব মেদিনীপুরের মোট পাঁচজন ছাত্রছাত্রী জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনই ছাত্রী। প্রায় সকলেই চিকিৎসক হতে চান। সদ্য সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষা দিয়েছেন। ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ওই কৃতী পড়ুয়ারা। এগরার ঝাটুলাল হাইস্কুলের জৈৎসী ঘোষ ৪৯১নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় সপ্তম স্থানাধিকারী। মাধ্যমিকে প্রথম দশে থাকার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু, ইতিহাসে প্রত্যাশা মতো নম্বর না আসায় সেটা সম্ভব হয়নি। তাই উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়াটা জৈৎসীর কাছে স্পেশাল। তাঁর বাবা প্রশান্তকুমার ঘোষ যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া মহাবিদ্যালয়ের অঙ্কের অধ্যাপক। জৈৎসীর সঙ্গে এগরার আরও এক মেধাবী ছাত্রী বর্ণিতা হাজরা উচ্চ মাধ্যমিকে সপ্তম স্থান দখল করেছেন। এগরার দলআলুয়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। বাবা মৃগাঙ্ক হাজরা অন্যের জেরক্স দোকানের কর্মচারী। মৃগাঙ্কবাবুর ছেলে ও মেয়ে দু’জনেই ছোট থেকে পড়াশোনায় খুব ভালো। ছেলে কেমিস্ট্রিতে এমএসসি সম্পূর্ণ করার পর বিএড করছেন। একটি কোচিং সেন্টার চালান।
এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় প্রাইভেটে পড়ান। সেই টাকায় বোনের পড়াশোনার খরচ চলে। মৃগাঙ্কবাবু বলেন, মেয়ে মাধ্যমিকে ৬৮০নম্বর পেয়েছিল। তিন নম্বরের জন্য মেধা তালিকায় জায়গা হয়নি। এবার পরীক্ষা দিয়ে বলেছিল, মেধা তালিকায় জায়গা নিয়ে আশাবাদী। আমরাও সেই আশায় ছিলাম।
মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকেও মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান ধরে রাখলেন পাঁশকুড়ার রঘুনাথবাড়ি রামতারক হাইস্কুলের তিস্তা বেরা। বাবা চন্দনকুমার বেরা ওই স্কুলেরই বাংলার শিক্ষক। ২০২৩সালে ওই ছাত্রী মাধ্যমিকে অষ্টম স্থান দখল করেছিলেন। চন্দনবাবু বলেন, মেয়ে পাঁশকুড়া গার্লস থেকে মাধ্যমিক দিয়ে মেধা তালিকায় অষ্টম হয়েছিল। তারপর আমার নিজের স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করাই। ২০২৩ সালে আমাদের স্কুলের দুই পড়ুয়া মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় চতুর্থ ও দশম স্থান দখল করেছিল। দু’বছর বাদে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে র্যাঙ্ক হল।
মাধ্যমিকে মাত্র দু’নম্বরের জন্য মেধা তালিকায় স্থান হয়নি কাঁথির বিপ্রদীপ জানার। উচ্চ মাধ্যমিকে নবম হওয়ার পর সেই আফশোস উধাও ওই কৃতী পড়ুয়ার। বাবা বিধানচন্দ্র জানা পেশায় ব্যবসায়ী। মা পুতুল সেনাপতি জানা নামালডিহা হাইস্কুলের শিক্ষিকা। কাঁথি মহকুমা থেকে একমাত্র বিপ্রদীপ মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। একইভাবে এক নম্বরের জন্য মাধ্যমিকে মেধা তালিকা হাতছাড়া হয়েছিল মহিষাদল ব্লকের তাজপুরের অদ্রিজা জানার। উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় নবম হয়েছেন। গোটা হলদিয়া মহকুমার মধ্যে একমাত্র তিনিই মেধা তালিকা স্থান করে নিয়েছেন। বাবা পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক। মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হতে চান।
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বড়নান হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কাউন্সিল মনোনীত কনভেনার সমীর ভৌমিক বলেন, আমাদের জেলায় সামগ্রিক ফলাফল সবচেয়ে ভালো হয়েছে। পাশাপাশি একসঙ্গে পাঁচজন মেধা তালিকায় জায়গা করেছে। তারা প্রত্যেকে জেলার নাম উজ্জ্বল করেছে।