নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: গ্রামের ভিতর দিয়ে ওভারলোডেড বালির গাড়ি যেতে দেওয়া হবে না। এই দাবিতে বুধবার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন জামুড়িয়া থানার চিচুড়িয়া ডাঙালপাড়ার বাসিন্দারা। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হতেই কিছু লোকজন তাঁদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। এক প্রতিবাদী মহিলাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় গ্রামে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরাট পুলিস বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিস। পরে থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গ্রামের রাস্তা দিয়ে ভারী গাড়ি যাতায়াত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশের পরও কীভাবে লোকালয়ে গ্রামের রাস্তার উপর দিয়ে দৈত্যাকার ১৬ ও ১৮ চাকা ডাম্পার ছুটছে, তা নিয়েই সরব হন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া ফাঁড়ির অন্তর্গত অজয় নদে নিয়ম ভেঙে জল প্রকল্পের সামনে থেকে বালি তুলে নেওয়া হচ্ছে। বালি কারবারিরা অজয় নদের উপর নিয়ম বর্হিভূতভাবে বাঁধ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চুরুলিয়ার দরবারডাঙায় বালি ব্লকের লিজ নিয়েছে দুবরাজপুরের এক বালি ব্যবসায়ী। সেখানে থেকেই সারিবদ্ধভাবে দৈত্যাকার লরি, ডাম্পারগুলি চুরুলিয়া ডাঙালপাড়ার ঘন বসতি এলাকা দিয়ে পার হচ্ছে। গ্রামের ভিতরে সংকীর্ণ রাস্তা, পাশেই স্কুল, তারমধ্যে দিয়েই যাচ্ছে বিশাল যানগুলি। এতে রাস্তা খারাপ হচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনাও। কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় একজন গুরুতর জখম হন। গ্রামবাসীরা গ্রামের মধ্যে দিয়ে বালির গাড়ি চলাচলের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের সর্বস্তরে চিঠি দিয়েছে। এর আগে একাধিকবার তাঁরা আন্দোলনও করেছে। তাতেও অবশ্য কারও টনক নড়েনি। এদিন তাঁরা ফের আন্দোলন শুরু করেন। বালির গাড়ি আটকানোর তোড়জোড় শুরু হতেই অন্য একটি পক্ষ তাঁদের এই কর্মসূচিতে বাধা দেয়। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিস এসে কোনওরকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিবাদী নয়ন গোপ বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করতেই বালির কারবারিরা তাদের টাকা দিয়ে পোষা লোকজনদের আমাদের উপর আক্রমণ করার নির্দেশ দেয়। তাদের আক্রমণে আমাদের এক মহিলা আক্রান্ত হয়। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। অপরপক্ষের দাবি, বালি গাড়ি চলাচল করার জন্য বালি কারবারিরা টাকা দিচ্ছে। তাতে গ্রামের উন্নয়ন হচ্ছে। এরা টাকা তোলার জন্য আন্দোলনে নেমেছে। বালি ব্যবসায়ী লাল্টু দত্ত বলেন, বালির গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না বললে, টেন্ডার কেন ইস্যু করছে? সরকারি রাস্তাতেই বালির গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। উপর দিয়ে তো বালি নিয়ে যাব না। অতিরিক্ত জেলাশাসক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। যদিও এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি পুলিস। -নিজস্ব চিত্র