Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মানুষকে বাঁচাবার প্রকল্প

দুর্ঘটনা জীবনেরই অঙ্গ। দুর্ঘটনা বলে কয়ে আসে না। দুর্ঘটনা এড়াবার কোনও প্ল্যান হয় না। তবে দুর্ঘটনায় মানুষ শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই বিপদ অতিক্রম করার প্ল্যান অবশ্যই করা সম্ভব। প্রথম দরকার দ্রুত এবং উপযুক্ত চিকিৎসা। কিন্তু তার জন্য তৎক্ষণাৎ এবং পর্যাপ্ত টাকা প্রয়োজন। এদেশের মূল সমস্যা দারিদ্র্য এবং বিমা সংস্কৃতি মোটেই উন্নত নয়। বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্য বিমার আওতার বাইরে।

মানুষকে বাঁচাবার প্রকল্প
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দুর্ঘটনা জীবনেরই অঙ্গ। দুর্ঘটনা বলে কয়ে আসে না। দুর্ঘটনা এড়াবার কোনও প্ল্যান হয় না। তবে দুর্ঘটনায় মানুষ শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই বিপদ অতিক্রম করার প্ল্যান অবশ্যই করা সম্ভব। প্রথম দরকার দ্রুত এবং উপযুক্ত চিকিৎসা। কিন্তু তার জন্য তৎক্ষণাৎ এবং পর্যাপ্ত টাকা প্রয়োজন। এদেশের মূল সমস্যা দারিদ্র্য এবং বিমা সংস্কৃতি মোটেই উন্নত নয়। বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্য বিমার আওতার বাইরে। তাই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া মাত্রই রোগীর উপযুক্ত চিকিৎসার সুযোগ মেলা দুষ্কর। অথচ দুর্ঘটনা পরবর্তী প্রথম এক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময়ের মধ্যে যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায় রোগীকে বাঁচানো তত সহজ হয়ে যায়। কিন্তু এই দুর্লভ সময়ের সুযোগগ্রহণ হাতছাড়া হয়ে যায় মূলত আর্থিক কারণে। পথদুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কাণ্ডে প্রতিদিন যত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তার একটা বড়ো অংশের জন্য দায়ী করা যায় উপযুক্ত চিকিৎসায় বিলম্বকে। এবার বাংলায় সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-মাটি-মানুষের সরকার। দুর্ঘটনায় জখম ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে নিয়ে গেলে ক্যাশলেস চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। মিলবে সর্বাধিক দেড় লক্ষ টাকা। সর্বোচ্চ ওই পরিমাণ খরচ বহন করবে সরকার। চিকিৎসার বিল তার অতিরিক্ত হলে সেই দায়িত্ব রোগী বা তার পরিবারকে বহন করতে হবে। চালু হচ্ছে এমনই একটি জনমুখী সরকারি প্রকল্প। রাজ্যগুলিকে তাদের হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের তালিকাসহ এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে বলেছে কেন্দ্র। এই সুবিধাই এবার চালু হয়ে যাচ্ছে বাংলায়। এর জন্য রাজ্যে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির একটি তালিকা তৈরি করছে সরকার। দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাবে পুলিশ। ডাক্তাররা দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন রোগীকে ভরতি রেখে চিকিৎসা করা জরুরি কি না। রোগীকে ভরতি করা হলে একটি ‘পেশেন্ট আইডি’ তৈরি করে সেটি পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট থানায়। থানার তরফে এফআইআর নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যুক্ত করে তা কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করা হবে। এরপর রোড সেফটি কমিটি সব তথ্য যাচাই করে অর্থ অনুমোদন দেবে।

Advertisement

দুর্ঘটনা যে অঞ্চলে ঘটেছে সেখানে এই তালিকাভুক্ত হাসপাতাল না-থাকলে রোগীকে ভরতি করা হবে অন্যকোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে। সেক্ষেত্রেও এই সরকারি প্রকল্পের আওতায় দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত থাকবে, কেন একটি তালিকাবহির্ভূত হাসপাতালে রোগীকে ভরতি করতে হল—তার কারণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করে দিতে হবে। এমনকি, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির বিমা না-থাকলেও বা মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও এই প্রকল্পের অর্থ পাওয়া আটকাবে না। হাসপাতাল বা নার্সিংহোম উপযুক্ত চিকিৎসা দিচ্ছে কি না তার উপরেও নজর রাখবে জেলাওয়ারি কমিটি। ভরতি নেওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রোগী প্রত্যাখ্যাত হলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। কীভাবে এই  প্রকল্প চালু হবে, কোন কোন বেসরকারি হাসপাতালকে রাখা হবে এবং জেলাওয়া঩রি কমিটিতে কারা থাকবেন, সেই ব্যাপারে মুখ্যসচিবের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা।
রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে পুলিশ ও স্বাস্থ্যদপ্তর ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি বৈঠক করেছে। শীঘ্রই তৈরি হয়ে যাবে চূড়ান্ত এসওপি। অতঃপর, রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য প্রকল্পটি চালু করা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। স্বভাবতই এই আশা জাগছে যে, আগামী দিনে এরাজ্যে দুর্ঘটনায় জখম ব্যক্তিদের চিকিৎসা অনেকখানি নিশ্চিত হবে। চিকিৎসার খরচ কে জোগাবে? কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে? এই নিয়ে শুরুতে যে দোটানা চলে আর অনাবশ্যক বিলম্ব হয়, তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আশঙ্কাজনক রোগীর চিকিৎসায় ক্ষতি হয়ে যায় অপূরণীয়। অনেকসময় রোগীকে সুস্থ করে তোলার সুযোগটা ডাক্তার, নার্সদের হাতের বাইরেও চলে যায়। অর্থাৎ ‘গোল্ডেন আওয়ারে’র সুযোগ গ্রহণে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তারা। মানুষকে বাঁচাবার এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং মহতী। প্রকল্পটি দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে চালু হলেই রাজ্যবাসী সার্থক জ্ঞান করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ