অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: রাজ্যে বেসরকারি ডিএলএড কলেজগুলির সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর চাপ বাড়ছে। তাই রাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউশন অব এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংগুলিতে (ডায়েট) অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে মোট ১০১টি পদের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অধ্যক্ষ পদ ১২টি, লেকচারার ৫৮টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিশিয়ান পাঁচটি, লাইব্রেরিয়ান ১১টি। বাকি ১৫টি পদ হস্টেল ওয়ার্ডেনের। এর পাশাপাশি, স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এসসিইআরটি নামে একটি লাইব্রেরিয়ান পদও পেয়েছে। এই সংস্থাই ডায়েটগুলির নজরদারির দায়িত্বে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যাবে রাজ্যের বেসরকারি ডিএলএড কলেজগুলির পরিস্থিতি দেখলে। এরাজ্যে ছ’শোর বেশি ডিএলএড কলেজ রয়েছে। তবে, পরিকাঠামো, শিক্ষকের সংখ্যা এবং মান অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আশাব্যাঞ্জক নয়। তাই, নিয়মিত ব্যবধানে কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই এবং রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এদের স্বীকৃতি এবং অনুমোদন বাতিল করে থাকে। এনসিটিইএেই কলেজগুলির কাছ থেকে পারফরম্যান্স অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্ট বা ‘পার’ চেয়ে পাঠিয়েছিল। তার ভিত্তিতে ৩৬টি কলেজকে শোকজ করা হয়। অতি সম্প্রতি, ১৬টি ডিএলএড কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে একই সংস্থার অধীনস্থ চারটি বিএড কলেজও। এমনকী, একটি বিপিএড কলেজের স্বীকৃতিও নিজেদের ৩৬৫তম বৈঠকে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিই। ফলে, রাজ্যে শিক্ষক শিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা ক্রমেই কমছে।
এনসিটিই নতুন করে কোনও ডিএলএড কলেজকে স্বীকৃতিও দিচ্ছে না। এর পিছনে রয়েছে কেন্দ্রের নয়া নীতিও। সেই অনুযায়ী টিচার এডুকেশন ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। ডিএলএড কোর্সটিরও খোলনলচে বদলে ফেলে সেটিকে ইন্টিগ্রেটেড টিচার এডুকেশন প্রোগ্রামের (আইটিইপি) অধীনে আনা হবে। তাই রীতিমতো একটি পরিবর্তনশীল এবং বিপন্ন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এই কোর্স এবং প্রতিষ্ঠানগুলি। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরির জন্য ডিএলএড কোর্স এবং মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকতায় বিএড কোর্স আবশ্যিক যোগ্যতা। তাই, এগুলির চাহিদা থাকবেই। সে কারণেই নবান্নকে সরকারি পরিকাঠামোয় জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পেরেছে বিকাশ ভবন। তার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার এই শূন্যপদের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে ইতিমধ্যেই সিলমোহর দিয়েছেন রাজ্যপাল। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ অবশ্য বলছেন, বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক পদপ্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের তুলনায় অনেক বেশি। দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন হলেই এই কোর্সের আরও বেশি চাহিদা তৈরি হবে।