নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দিদের জন্য ‘ওপেন জেল’ তৈরির পদক্ষেপ শুরু করেছে রাজ্য কারাদপ্তর। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের জীবনযাপন করার পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টিই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। বিষয়টি নিয়ে নবান্নের কাছে প্রস্তাব গিয়েছে বলে খবর। মহিলাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওপেন জেলে সুরক্ষা ব্যবস্থায় কী থাকবে এবং তাদের দিয়ে কী ধরনের কাজকর্ম করানো হবে তার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দিদের জন্য কারাদপ্তর অনেক আগেই তিনটি ওপেন জেল চালু করেছে। এখানে অবস্থানকাী অপরাধীদের কেউ স্থানীয় স্তরে টোটো চালক, আবার কেউ ফুটবল প্রশিক্ষণ হিসেবে কাজ করছে। অনেকেই আবার ছোটোখাটো দোকান চালাচ্ছে। দিনের শেষে সকলেই ফিরে আসে উন্মুক্ত সংশোধনাগারে। বারো বছরের বেশি সাজা খেটে ফেলেছে এমন দণ্ডিতদের আচার-আচরণ ও রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়। যারা সবদিক থেকেই ‘পাশ’ করে তাদের পাঠানো হয় ওপেন জেলে। মহিলাদের জন্য আলাদা জেল রয়েছে রাজ্যে। এছাড়া সাধারণ সংশোধনাগারে মহিলা কয়েদিদের রাখা হয়। তাদের অনেকেই যাবজ্জীবন সাজা খাটছে। অনেকের আচার-আচরণ যথেষ্ট ভালো। ওইসঙ্গে নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে তারা হাঁপিয়ে উঠছে। পরিবারের থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকায় অবসাদ আসছে তাদের মধ্যে। সেই কারণে তাদের জন্য উন্মুক্ত জেল তৈরির ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করে কারাদপ্তর। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব যায় নবান্নে। প্রশাসনিক কর্তাদের তরফে বিষয়টি নিয়ে এগোনোর ইঙ্গিত মেলার পরই এটা নিয়ে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নবান্ন সূত্রের খবর, ওপেন জেল তৈরির জন্য সিউড়ির একটি জমি প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। আরো কিছু জায়গা দেখার কাজ চলছে। তবে মহিলাদের উন্মুক্ত জেল তৈরির ক্ষেত্রে কর্তাদের ভাবাচ্ছে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি। কারণ কাজের প্রয়োজনে তাদের বাইরে যেতে হবে। সেখানে তারা কোনো হেনস্তার শিকার হলে তার দায় এসে পড়বে কারাদপ্তরের উপর। তাই বাইরে গিয়ে কাজের পরিবর্তে ওপেন জেলের মধ্যেই তারা যাতে কাজকর্ম করতে পারে সেটাই পরিকল্পনায় রাখা হচ্ছে। একান্ত প্রয়োজনে, অর্থাৎ কেনাকাটা করতে গেলে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয় মাথায় রয়েছে কর্তাদের। ওপেন জেলে প্রথম তিনমাস পর্যন্ত কয়েদিদের খরচ জোগায় কারা কর্তৃপক্ষ। এপর তাদের খরচ চালাতে হয় নিজেদের উপার্জনে। মহিলাদের ওপেন জেল চালু হলে একই ব্যবস্থা থাকবে। সেই কারণে তাদের কুকিং, বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি, আচার থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত খাদ্য প্রস্তুত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরিকল্পনা রয়েছে বিভিন্ন অফিসার ক্যান্টিনে তাদের মাধ্যমে খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করা। এর জন্য বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলবেন আধিকারিকরা।