Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হৃদরোগের চিকিৎসার প্রাথমিক পাঠ স্কুলেই, কীভাবে সিপিআর? এবার ঢুকছে উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে

জন্মদিনের পার্টিতে সবাই নাচেগানে মশগুল। আনন্দমুখর মুহূর্তে আচমকা বুকে হাত রেখে গড়িয়ে পড়লেন একজন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

হৃদরোগের চিকিৎসার প্রাথমিক পাঠ স্কুলেই, কীভাবে সিপিআর? এবার ঢুকছে উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: জন্মদিনের পার্টিতে সবাই নাচেগানে মশগুল। আনন্দমুখর মুহূর্তে আচমকা বুকে হাত রেখে গড়িয়ে পড়লেন একজন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এখন মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনার খবর পাওয়া যায়। কখনও আবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হৃৎপিন্ড সাময়িক স্তব্ধ হয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর। তবে সমস্যা হল, সিপিআর সম্বন্ধে জানা এবং তা দিতে পারার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে। তাই উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে বিস্তারিতভাবে ঢুকছে সিপিআর এবং জীবন বাঁচানোর অন্যান্য তাৎক্ষণিক পদ্ধতি। শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গেলে বা কেউ জলে ডুবে গেলে কীভাবে সেই খাবার বা জল বের করে হৃদযন্ত্র চালু রাখতে হবে, সেই পদ্ধতিও থাকছে তৃতীয় সেমেস্টারে স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষার সিলেবাসে। তবে বইয়ের পাশাপাশি হাতেকলমে শিক্ষা এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। যেমন, কলকাতার মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা সুনীল যাদব এক চিকিৎসকের গাড়ি চালান। পড়াশোনা বিশেষ কিছু নয়। তবে তিনি একটি সিপিআর কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে হাতেকলমে শিখে আসা বিদ্যে কাজে লাগিয়েই প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, সিপিআরের খানিক উল্লেখ রয়েছে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যক্রমেও। তবে  ক্লাস এইটের পড়ুয়ার পক্ষে কার্যকরী সিপিআর দেওয়া বেশ কঠিন। তাই উঁচু ক্লাসের সিলেবাসে তা বিস্তারিতভাবে আনা হল বলে জানিয়েছেন সিলেবাস প্রণেতারা। 

Advertisement

বলা হয়েছে, কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে গলার পাশে ক্যারোটিড ধমনি চেপে ধরে দেখতে হবে, হৃদযন্ত্র সচল রয়েছে কি না। সচল থাকলে অল্প ধাক্কা দিয়ে তাঁর জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে। তাতে কাজ না হলে কাত করে শুইয়ে শক্ত কিছু দিয়ে মুখ খোলাতে হবে। মুখে কিছু আটকে থাকলে দ্রুত তা বের করে দিতে হবে। এরপর দু’টি পাঁজরের সংযোগস্থলের দু’আঙুল নীচে তালুর শক্ত জায়গা দিয়ে চাপ দিয়ে যেতে হবে। ব্যবহার করতে হবে একসঙ্গে দু’টি হাতই। যতক্ষণ না জ্ঞান ফিরছে বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ মিনিটে ১০০ বার এভাবে চাপ দিয়ে যেতে হয়। রোগীর নাক চেপে মুখে মুখ দিয়ে জোরে জোরে ফুঁ দেওয়াও যায়। তবে এই পদ্ধতি শিশুদের জন্য বেশি কার্যকরী। আক্রান্তের কৃত্রিম দাঁত থাকলে তা আগেই খুলে ফেলতে হবে। 
সিপিআরের পাশাপাশি রয়েছে হেইমলিচ পদ্ধতির ব্যাখ্যাও। শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গেলে কথা বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বুড়ো আঙুল দিয়ে হেইমলিচ সাইনের মাধ্যমে সমস্যাটি বোঝাতে পারেন আক্রান্ত। সেই ইঙ্গিত সঠিকভাবে বুঝে পদক্ষেপ করার জন্যও বিষয়টি জানা প্রয়োজন। পিছন থেকে আক্রান্তকে জড়িয়ে তাঁর পেটে পাঁচবার জোরে চাপ দিলে কাশির সঙ্গে খাবারটি বেরিয়ে আসতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্য পিঠে জোরে চাপড় দিয়ে খাবার বের করার পদ্ধতি রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ