অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: জন্মদিনের পার্টিতে সবাই নাচেগানে মশগুল। আনন্দমুখর মুহূর্তে আচমকা বুকে হাত রেখে গড়িয়ে পড়লেন একজন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এখন মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনার খবর পাওয়া যায়। কখনও আবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হৃৎপিন্ড সাময়িক স্তব্ধ হয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর। তবে সমস্যা হল, সিপিআর সম্বন্ধে জানা এবং তা দিতে পারার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে। তাই উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে বিস্তারিতভাবে ঢুকছে সিপিআর এবং জীবন বাঁচানোর অন্যান্য তাৎক্ষণিক পদ্ধতি। শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গেলে বা কেউ জলে ডুবে গেলে কীভাবে সেই খাবার বা জল বের করে হৃদযন্ত্র চালু রাখতে হবে, সেই পদ্ধতিও থাকছে তৃতীয় সেমেস্টারে স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষার সিলেবাসে। তবে বইয়ের পাশাপাশি হাতেকলমে শিক্ষা এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। যেমন, কলকাতার মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা সুনীল যাদব এক চিকিৎসকের গাড়ি চালান। পড়াশোনা বিশেষ কিছু নয়। তবে তিনি একটি সিপিআর কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে হাতেকলমে শিখে আসা বিদ্যে কাজে লাগিয়েই প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, সিপিআরের খানিক উল্লেখ রয়েছে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যক্রমেও। তবে ক্লাস এইটের পড়ুয়ার পক্ষে কার্যকরী সিপিআর দেওয়া বেশ কঠিন। তাই উঁচু ক্লাসের সিলেবাসে তা বিস্তারিতভাবে আনা হল বলে জানিয়েছেন সিলেবাস প্রণেতারা।



