নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বেশ কিছুদিন ধরে ‘বহিরাগত’রা রাতে এলাকা দাপাচ্ছিল। গোপন সূত্র মারফত খবর ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় নাকা অভিযান শুরু করে পুলিশ। বাইরে থেকে কেউ এসে কোনও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি শাসন থানা এলাকার। আর গোটা কাণ্ডের নেপথ্যে বারাসত ২ ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নির্বাচন বলেই মত ওয়াকিবহলমহলের।
জানা গিয়েছে, বারাসত ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। শেষ পর্যন্ত ব্লকের সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে উঠে আসছে একাধিক নাম। এ নিয়ে দলের অন্দরে কিছুটা হলেও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। জল গড়িয়েছে রাজ্যস্তরেও। সূত্রের খবর, দলের একাংশ চাইছেন ব্লকের অন্তর্গত কোনও এক পঞ্চায়েতের প্রধানকে ব্লক সভাপতি করতে। কিন্তু সেই প্রধানকে দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য সরব হয়েছে দলেরই একটা বড় অংশ। অভিযোগ, এই পঞ্চায়েত প্রধানের নামে বিভিন্ন সময়ে বেনিয়ম সামনে এসেছে। এ নিয়ে পোস্টারও পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূলের এই নেতার কীর্তি ফের সামনে আসতে পারে। তা নিয়ে পোস্টারিং হতে পারে বলেই দলের অন্তরে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল। তাই প্রধানের কীর্তি যাতে সামনে না আসে তার জন্যই বহিরাগত একদল যুবক কখনও বাইক আবার কখনও বা চারচাকায় করে শাসন, কীর্তিপুর, দাদপুর সহ ব্লকের বিভিন্নপ্রান্তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতেকিছুটা হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয়রা এ নিয়ে শাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মূলত ‘রাতপাহারা’র নামে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর আশঙ্কা করছিল পুলিশ। সেইমতো বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে শুরু হয় গোটা ঘটনার তদন্ত। অশান্তি এড়াতে এসডিপিও উৎপল পুরকাইত, শাসন থানার আইসি আসিফ সানিকে নিয়ে বৈঠক করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তারপর এলাকায় বাড়ানো হয় সন্ধ্যার পর থেকে চেকিং। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে জোরকদমে পুলিশের পক্ষ থেকে নাকা চেকিং করা হয়। এই চেকিংয়ে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটকও করে। তাদের থানায় এনে জেরা করতেই গোটা বিষয়টি সামনে আসে। তাদের পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এরপর এই ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর রবিবার রাতেও পুলিশের পক্ষ থেকে চেকিং চলে। তবে বহিরাগতদের দাপাদাপি কমেছে। এ নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ এসেছিল বহিরাগতরা এলাকায় ঢুকে অশান্তি পাকাতে পারে। কয়েকজন রাতে এলাকায় এসেওছিল। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বহিরাগতদের আসা এখন পুরোপুরি বন্ধ।