Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫ এপ্রিল রেল অবরোধের প্রস্তুতি, বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লাইনে ভোগান্তির চরম আশঙ্কা

৫ এপ্রিল রেল অবরোধের প্রস্তুতি, বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লাইনে ভোগান্তির চরম আশঙ্কা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: একাধিক দাবিকে সামনে রেখে ফের রেল অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নলহাটি নাগরিক মঞ্চ। তবে এবার এক জায়গায় নয়, নলহাটি জুড়ে থাকা বিভিন্ন লেভেল ক্রসিং গেট এলাকায় লাইনে নেমে অবরোধ করবেন নলহাটিবাসী। আগামী ৫ এপ্রিল সেই অবরোধের প্রস্তুতি হিসাবে ভোট প্রচারের কায়দায় গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে প্রচার শুরু করছেন তাঁরা। মঞ্চের সাফ কথা, দাবি না মানা পর্যন্ত ওইদিন রেল অবরোধ চালিয়ে যাবেন তাঁরা। স্বভাবতই ঈদ শেষে নাগরিক মঞ্চের সেই কর্মসূচি ঘিরে ভোগান্তির আশঙ্কায় রেল যাত্রী থেকে ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

আপ ও ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা, কুলিক ও ডাউন উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের স্টপেজ, স্টেশনের উন্নয়ন ও করোনা কালে বন্ধ থাকা বারাণসী এক্সপ্রেস, বর্ধমান মালদা লোকাল, দানাপুর ফাস্ট প্যাসেঞ্জার, বারহারোয়া শিয়ালদহ বামদেব প্যাসেঞ্জার ও রামপুরহাট সাহেবগঞ্জ লোকাল চালুর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে নলহাটি নাগরিক মঞ্চ। গত ১ ডিসেম্বর রেল অবরোধ করেন তাঁরা। তার জেরে ওই঩দিন বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ওইদিন নলহাটিতে এডিআরএম এবং সিনিয়র ডিসিএম মঞ্চের সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসলেও ফলপ্রসু হয়নি। উল্টে রেল অবরোধ করায় এলাকার তৃণমূল বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং সহ মঞ্চের পদাধিকারীদের কেস দিয়েছে রেল। তাঁদের জামিন নিতে হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি হাওড়ায় ডিআরএম লেভেলে মিটিংয়ে মঞ্চের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হয়। ওইদিন কার্যত অপমানিত হয়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন বিধায়ক সহ মঞ্চের প্রতিনিধিরা। 
একদিকে অপমান, অন্যদিকে বিধায়ককে কেস দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন নলহাটির মানুষ। এরই মধ্যে ৫ এপ্রিল ফের রেল অবরোধের ডাক দিয়েছে মঞ্চ। তবে এবার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় লাইনে নেমে অবরোধ নয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ছ’টায় ডাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পরই একইসঙ্গে একধিক জায়গায় রেল অবরোধ করবেন তাঁরা। এক জায়গায় যাতে বেশি সংখ্যায় পুলিসকর্মী মোতায়েন না করা যায়, সেই লক্ষ্যে এই কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। মঞ্চের সহ সম্পাদক রাজেন্দ্র মিশ্র বলেন, ওইদিন নলহাটি প্রধান বাজারের উপর লেভেল ক্রসিং ছাড়াও ডাঙাপাড়া, বোলপুর-রাজগ্রাম রোডের উপর আজিমগঞ্জ রেলগেট, করিমপুর, পাথরা ও মহুল্লা রেলগেটে রেল অবরোধ করা হবে। রেল কত পুলিস মোতায়েন করতে পারে, সেটাই দেখতে চাই। হাজার দশেক মানুষ অবরোধে শামিল হবেন। ইতিমধ্যে ওই সমস্ত গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছে মঞ্চ। গ্রামবাসীরাও তাঁদের বিধায়কের উপর কেস দেওয়ার প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে ঝাঁপাবেন বলে জানাচ্ছেন। দাবি আদায় না হলে ওইদিন সারাদিন ব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। 
বিধায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জংশন নলহাটি। অথচ এলাকার মানুষের দাবি মানতে চাইছে না রেল। এবার মানুষ তাঁদের দাবি আদায়ে যে আন্দোলনের ডাক দেবে, তাতে সায় রয়েছে আমার। 
এদিকে ঈদ শেষে রেল অবরোধ ঘিরে চূড়ান্ত হয়রানির আশঙ্কা বাড়ছে। কারণ, ঈদ উপলক্ষ্যে ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক থেকে অনেকে বাড়ি ফিরছেন। ঈদ শেষে তাঁরা ফের কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। যদিও মঞ্চের সদস্যরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসলেও রেল চুপচাপ বসে। বাধ্য হয়ে তাঁদের পথে নামতে হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ