নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মানুষকে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার সুবিধা দিতে হোমিওপ্যাথির একাধিক চিকিৎসক নিয়োগ হতে চলেছে হুগলিতে। চিকিৎসক নিয়োগের পরীক্ষা সেরে ফেলেছে জেলা পরিষদ ও স্বাস্থ্যদপ্তর। হুগলি জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ হোমিওপ্যাথির চিকিৎসক জেলাজুড়ে নিয়োগ করা হবে। তার একটি প্যানেল রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তরের অনুমোদের জন্য নবান্নে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিললে চিকিৎসকরা কাজ শুরু করবেন।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাছাই করা ২৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য হোমিও চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার মধ্যে ২৩টিতে নিয়োগের যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রামের মানুষ বর্তমানে বাড়ির দোরগোড়াতেই কার্যত চিকিৎসা পরিষেবা পান। সেখানে বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই পরিকল্পনা হয়েছে। ২৩ জনের একাংশকে এমন কিছু এলাকায় পাঠানো হবে যেখানে জরুরি চিকিৎসার পরিকাঠামো কিছুটা দুর্বল। সে ক্ষেত্রে গ্রামীণ মানুষের কাছে বাড়তি চিকিৎসক পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ দেবীপ্রসাদ রক্ষিত বলেন, ‘গ্রামীণ চিকিৎসা পরিকাঠামো অনেক উন্নত হয়েছে। জেলায় সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো টেলিমেডিসিন পরিষেবা চালুর পর গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক পরিষেবা পৌঁছনোর পথ তৈরি হয়েছে। এবার বিকল্প চিকিৎসার সুবিধা আমরা দিতে চেয়েছি। সে কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে হোমিও চিকিৎসা চালুর পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই কাজ প্রায় শেষ।’ হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রাথমিক স্তর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য একগুচ্ছ নতুন পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ফলে অধিক সংখ্যক চিকিৎসক প্রয়োজন। অনেক মানুষই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করাতে চান। একদিকে বিকল্প চিকিৎসা, চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন পরিকাঠামোর জন্য চিকিৎসক নিয়োগ, সমস্ত লক্ষ্যকে একত্রিত করে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য দপ্তর খুবই গুরুত্ব সহকারে সেই কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। আমাদের আশা, চলতি বছরেই গ্রামীণ নাগরিকদের বিকল্প চিকিৎসার জন্য বাড়তি চিকিৎসক বহাল সম্ভব হবে।’
গত দু-তিন বছরে হুগলি জেলার চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। চিকিৎসার জন্য নতুন ভবন তৈরি থেকে বাড়তি চিকিৎসা পরিকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। টেলি মেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা জেলায় রমরমিয়ে চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প চিকিৎসার লক্ষ্যে হোমিওপ্যাথির চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা হয়। চিকিৎসকদের সেই চূড়ান্ত তালিকায় নবান্নের সিলমোহর পড়লেই গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন মাত্রা জুড়বে।