নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: হেমতাবাদে দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধারকাণ্ডে কার্যত অন্ধকারে রায়গঞ্জ পুলিস। ভয়ঙ্কর এই ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পরও কোনও হালহদিশ না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে মৃতের পরিবারের। মৃত বিট্টু ক্ষেত্রীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবার থানায় ধর্নায় বসার হুমকি দিয়েছেন। তবে পুলিস ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে চলেছে। ঘটনাস্থল থেকে যাতে তথ্যপ্রমাণ লোপাট না হয়, সেদিকে পুলিস খেয়াল রাখছে। তার জন্য ঘটনাস্থলে পুড়ে যাওয়া খড়ের গাদা ও স্কুটারটি কর্ডন করে রাখা হয়েছে। ছাইয়ের স্তুপ ঢেকে দেওয়া হয়েছে কালো প্লাস্টিক দিয়ে। রাতের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে উজ্জ্বল আলোর। ঘটনাস্থলে সর্বক্ষণ নজরদারির জন্য রয়েছে পুলিস ক্যাম্প।
শুক্রবার মধ্যরাতের এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে শনিবার সকালে। হেমতাবাদের দক্ষিণ ধোঁয়ারইয়ের কার্যত নির্জন একটি খেতে ঘটনাটি ঘটে। জনশূন্য ভুট্টা খেতের মাঝে একটি খড়ের গাদা থেকে কালো ধোঁয়া বেরতে দেখেন স্থানীয় মানুষজন। এমন অবস্থায় স্থানীয়দের নজরে পড়ে জলন্ত ওই খড়ের গাদায় একজনের পা বেরিয়ে রয়েছে। খবর পেয়ে আসে হেমতাবাদে থানার পুলিস। স্কুটার সহ এক যুবকের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে শুনে বাঙ্গালবাড়ি থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিট্টুর আত্মীয়রা। পুড়ে যাওয়া স্কুটার, দগ্ধ মৃতদেহের কিছু অংশ দেখে তাঁরা দাবি করেন দেহটি বিট্টুর। তিনি শনিবার সন্ধ্যে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পুলিসের বক্তব্য অনুযায়ী,চপ্পল দেখে বিট্টুকে চিহ্নিত করেছে পরিবার। তবে ডিএনএ টেস্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পুলিস বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা শুরু করেছে। সম্পন্ন হয়েছে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত। কিন্তু ঘটনায় যুক্ত কারও সন্ধান মেলেনি বলে পুলিস জানিয়েছে।
রায়গঞ্জের পুলিস সুপার সানা আখতার বলেন, এই ঘটনার পিছনে যাবতীয় সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি।
পুলিস সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে সুদের কারবার ছিল বিট্টুর। অনেকের থেকে টাকা পেতেন তিনি। কয়েকজনের সঙ্গে মন কষাকষি ছিল। তাদের বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে।
মৃত বিট্টুর স্ত্রী অঙ্কিতা দেব ক্ষেত্রী বলেন, পুলিসের কাছে তদন্তের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। কিছুই বলেনি তারা। শুধু আমাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিস কিছু না করলে এই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই থানায় গিয়ে ধর্নায় বসব।
মৃতের ভাই স্বপন ক্ষেত্রী ক্ষোভ উগড়ে বলেন, পুলিস তদন্ত না করতে পারলে সিআইডিকে ছেড়ে দিক। না হলে সিবিআইকে তদন্ত ভার দেওয়া হোক। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব। ঘটনাস্থলে পুলিস। - নিজস্ব চিত্র।