Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫ পরিচিতের মোবাইল নম্বর ধরিয়ে দিল ট্যাব কেলেঙ্কারির প্রতারকদের

৫ পরিচিতের মোবাইল নম্বর ধরিয়ে দিল ট্যাব কেলেঙ্কারির প্রতারকদের
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পাঁচটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই ট্যাব কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস করেছে পুলিস। ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া গ্যাং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অপারেশন সারে। কিন্তু এরাজ্যের বৈষ্ণবনগর এবং চোপড়া গ্যাং ততটা পোক্ত নয়। সেকারণেই তাদের পুলিস দ্রুত জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যাব কেলেঙ্কারিতে যুক্ত অধিকাংশকেই পুলিস চিহ্নিত করেছে। তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিরা জালে ওঠা শুধু সময়ের অপেক্ষা। 
Advertisement
বর্ধমানের সিএমএস স্কুল প্রথম ট্যাবের টাকা প্রতারণার অভিযোগ করে। পুলিস ১০দিনের মধ্যেই ‘ব্রেক-থ্রু’ পায়। সেটা কীভাবে সম্ভব হল? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারকরা বর্ধমানের ওই স্কুলের ২৮জন পড়ুয়াকে টার্গেট করে। পোর্টাল থেকে তাদের অ্যাকাউন্ট নম্বর সরিয়ে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বরের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মোবাইল নম্বরও ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে আপলোড করা হয়। প্রতারকরা তাদের মধ্যে পাঁচজনের মোবাইল নম্বর বদলে দেয়। নিজেদের মোবাইল নম্বর সেখানে সংযুক্ত করে। ‘অপারেশন’ শেষ হওয়ার পর তারা সিমকার্ডগুলি ফেলে দেয়। তাদের ধারণা ছিল, সেগুলি নিষ্ক্রিয় করে দিলে পুলিস তাদের টিকি ছুঁতে পারবে না। এই ছোট ভুলই তাদের বিপদে ফেলে দেয়। এক আধিকারিক বলেন, প্রতারকরা নিজেদের নামে সিমকার্ডগুলি তোলেনি। তারা অন্যজনের নথি হাতিয়ে কয়েকটি সিমকার্ড তুলেছিল। যাদের নামে সিমকার্ড উঠেছিল তদন্তকারীরা প্রথমে তাদের চিহ্নিত করেন। তাদের জেরাও করা হয়। তাদের একজনের কাছ থেকে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, হাসন শেখ নামে এক যুবক সেই সিমকার্ড ব্যবহার করেছে। এরপরই পুলিস তাকে জেরা শুরু করে। তার মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে পুলিসের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার অবস্থা হয়। তারা জানতে পারে, হাসনই তার মোবাইল থেকে পড়ুয়াদের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করে। তার মতো আরও কয়েকজন এই কাজ করেছে। তাদের পোর্টাল সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছে রকি নামে এক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতারকরা যে কায়দায় প্রতারণা করেছে তাদের মোবাইল নম্বর বদলের দরকার ছিল না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তা করেওনি। শুধুমাত্র অতি আত্মবিশ্বাসে পাঁচটি নম্বর তারা সেখানে সংযুক্ত করে। টাকা পাঠানোর সময় মোবাইল নম্বর চেক করা হয় না। তবে টাকা ঢুকলে মোবাইলে মেসেজ ঢোকে। সেই মেসেজের জন্য প্রতারকদের অপেক্ষা করার দরকার ছিল না। কখন টাকা জমা পড়বে সেই তথ্য তাদের কাছে আগে থেকেই ছিল। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, প্রতারকরা জামতাড়া গ্যাংয়ের কাছে শিক্ষা নিয়েছিল। কিন্তু তাদের সব কৌশল তারা রপ্ত করতে পারেনি। বৈষ্ণবনগর বা চোপড়ার প্রতারকরা নিজেদের এলাকার বাসিন্দাদের নথি নিয়ে জালিয়াতি করেছে। অনেকেই তাদের চিনত। সেকারণে মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিস অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যায়। জামাতাড়া গ্যাং সাধারণত নিজেদের এলাকার বাসিন্দাদের অ্যাকাউন্ট বা নথি ব্যবহার করে না। তারা অন্য কোথাও গিয়ে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেয়। দূরের এলাকার বাসিন্দাদের নথি দিয়ে সিমকার্ড তোলে। তাদের কেউ চিনতে পারে না। সেকারণে তাদের পাকড়াও করা পুলিসের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই সব বিষয় মাথায় না 
রাখায় পুলিস এই গ্যাংকে সহজে জালে তুলে নেয়।
সম্পর্কিত সংবাদ