


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: জনবহুল হাওড়া স্টেশনের ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। আর সেখানেই এক সিআইএসএফ জওয়ানের কাছ থেকে মোবাইল ও লক্ষাধিক টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। লুটপাটের আগে তাঁর চোখে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক ‘স্প্রে’ করে দুষ্কৃতী। সব কিছু ঝাপসা দেখতে শুরু করেন ওই জওয়ান। অসমে নিজের বাড়িতে ফিরে তিনি সেখানকার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ‘জিরো এফআইআর’ করে আদালতের মাধ্যমে তারা বিষয়টি হাওড়া জিআরপি-কে পাঠিয়ে দেয়। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, অরূপ কলিতা নামে চেন্নাইতে কর্মরত ওই জওয়ান ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে করমণ্ডল এক্সপ্রেস থেকে হাওড়া স্টেশনের ১৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে দু’টি ব্যাগ ছিল। তার মধ্যে মোবাইল ও নগদ ১৬ হাজার টাকা রেখেছিলেন। সন্ধ্যায় কামরূপ এক্সপ্রেস ধরে গুয়াহাটি যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। একজন কুলি ধরে ব্যাগপত্র তিনি ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসেন। ওয়েটিং রুমে না থেকে প্ল্যাটফর্মেই বসেছিলেন। বেলা ২.৩০টা নাগাদ তাঁর পাশে এসে বসে এক যুবক। সে নিজে থেকে অরূপের সঙ্গে আলাপ করে তিনি কোথায় যাবেন, জানতে চায়। গুয়াহাটি যাওয়ার কথা বললে অপরিচিত যুবক জানায়, সে দিল্লি যাবে। তারও বিকালে ট্রেন রয়েছে। এসব কথাবার্তা চলার ফাঁকে আরও এক যুবক সেখানে হাজির হয়। সে একটি ব্যাগ ধরিয়ে দেয় আগে আলাপ জমানো যুবককে। অরূপ লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই ব্যাগটি খুলতেই স্প্রে’র মতো এমন কিছু বেরিয়ে আসে যে সবকিছু ঝাপসা দেখতে শুরু করেন তিনি। পাশে বসে থাকা অন্য আগন্তুক এর মধ্যে জওয়ানের ব্যাগ থেকে মোবাইল ও টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর শুরু হয় ভয় দেখানোর পালা। তাঁকে দুষ্কৃতীদের দেওয়া অ্যাকাউন্টে দেড় লক্ষ টাকা পাঠাতে বলা হয়। টাকা না দিলে খুন করে দেহ লোপাটের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি, সেখানেই মারধর পর্যন্ত করা হয় বলে অভিযোগ। ভয়ে ওই জওয়ান বাড়িতে ফোন করে বলেন, টাকা না দিলে তিনি খুন হয়ে যাবেন। এরপর অরূপের অ্যাকাউন্টে বাড়ির লোকজন প্রায় দেড় লক্ষ টাকা পাঠায়। সেই টাকা অরূপের অ্যাকাউন্টে ‘ক্রেডিট’ হয়েছে দেখেই তাঁর এটিএম কার্ড, নগদ ও মোবাইল নিয়ে চম্পট দেয় দুই দুষ্কৃতী। তারা এটিএমের পিন পর্যন্ত জেনে নিয়েছিল। ফলে কার্ড ব্যবহার করে ওই টাকা চারটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে। এর মাঝে ট্রেন এসে গেলে ওই অবস্থাতেই তিনি উঠে পড়েন। গুয়াহাটি পৌঁছে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সপ্তাহখানেক আগে হাওড়া জিআরপির হাতে তদন্তের দায়িত্ব আসে।
তদন্তে নেমে রেল পুলিশ প্ল্যাটফর্মের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তা থেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিতও করা গিয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, ভিন রাজ্য থেকে এই লুটেরা চক্র আসছে হাওড়া স্টেশনে। ভয় দেখিয়ে বা ভাব জমিয়ে নগদ, মোবাইল সহ অন্য সামগ্রী হাতাচ্ছে। চক্রের সঙ্গে জড়িতদের খোঁজ চলছে।