নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধারের পর জঙ্গলমহলের মেলাগুলির উপর বিশেষ নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাঁকুড়া পুলিস। পোস্টারের সঙ্গে মাওবাদীদের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে পুলিসের তরফে জানানো হলেও বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে একাধিক থানা এলাকায় একযোগে পোস্টার পড়ার ঘটনা গত বেশ কয়েক বছরে ঘটেনি। ফলে বিষয়টি অন্য মাত্রা পেয়েছে। এদিকে, দিন চারেক আগে বারিকুল থানা এলাকায় আয়োজিত একটি মেলায় কয়েকজন মাওবাদী নেতা ঘুরে গিয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। তারপরই জেলায় পোস্টার উদ্ধার হয়েছে। ফলে গোয়েন্দারা জঙ্গলমহলের উপর শ্যেনদৃষ্টি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, মাওবাদীদের এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সম্প্রতি এ রাজ্যের জঙ্গলমহলের দায়িত্ব পেয়েছেন বলেও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। ওই মাও নেতা কিষেনজির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা ওই নেতা ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমানার জঙ্গলে নতুন করে মাওবাদী সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন বলেও গোয়েন্দাদের কাছে খবর আছে। রবিবার উদ্ধার হওয়া পোস্টারে কিষেনজির ‘খুন’-এর বদলা নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকায় ওই মাওবাদী নেতার ব্যাপারে বাঁকুড়া পুলিসের আধিকারিকরা খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, জেলায় মাওবাদী গতিবিধির কোনও খবর আমাদের কাছে নেই। সারাবছরই জঙ্গলমহলে নজরদারি চালানো হয়। আগামী দিনেও তা চালানো হবে।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, গ্রীষ্মকালে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জায়গায় মেলা হয়। গরমের কারণে দিনে কেউ মেলায় যায় না। এইসব মেলা রাতভর চলে। বারিকুল থানা এলাকার ওই মেলার উপর আমাদের নজর ছিল। কিন্তু ঘটনার দিন বিকেল থেকে খাতড়া মহকুমাজুড়ে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। তা প্রায় ঘণ্টা দুয়েক তা চলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেভাবে নজরদারি চালানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, মেলাটি ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া সীমানা ঘেঁষা এলাকায় হয়েছিল। সেখান থেকে ঝাড়খণ্ড সীমানা কাছেই। ফলে যে কেউ ঝাড়খণ্ড থেকে জঙ্গলপথ ধরে মেলায় এসে ফের রাতের মধ্যে ওই রাজ্যে চলে যেতে পারে। আগামী দিনেও জঙ্গলমহলের একদা মাওবাদীদের আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত এলাকায় কয়েকটি মেলা হওয়ার কথা রয়েছে। সেগুলির উপর আমরা নজর রাখব।
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে ওন্দা ও তালডাংরা থানা এলাকায় মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার হয়। বিদ্যুতের খুঁটি, দেওয়ালে ওইসব পোস্টার সাঁটানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে পোস্টারগুলি সরিয়ে দেয়। লালকালিতে লেখা ওইসব পোস্টারে কিষেনজি সহ অন্যান্য মাওবাদী নেতানেত্রীর মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এবার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের টার্গেট করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি জল-জঙ্গল-জমি থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা যাবে না বলেও পোস্টারে উল্লেখ করা হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে রক্ত ঝরানো হবে বলেও পোস্টারে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।