Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সব সময় থানার সহযোগিতা মেলে না, লালবাজারকে পদক্ষেপের আর্জি পুর কমিশনারের , বন্ধ বাড়ি সাফাই

গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কড়া মনোভাব নিয়ে চলছে কলকাতা পুরসভা।

সব সময় থানার সহযোগিতা মেলে না, লালবাজারকে পদক্ষেপের আর্জি পুর কমিশনারের , বন্ধ বাড়ি সাফাই
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কড়া মনোভাব নিয়ে চলছে কলকাতা পুরসভা। ফাঁকা জমি হোক বা তালাবন্ধ বাড়ি—কোথাও জল, জঞ্জাল জমে মশার আঁতুড়ঘর তৈরির পরিস্থিতি হলেই সংশ্লিষ্ট মালিককে নোটিস ধরানো হয়েছে। তাতে কাজ না হলে পুরসভা মামলা করেছে। হচ্ছে মোটা টাকা জরিমানাও। চলতি বছরে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। বন্ধ বাড়ি সাফাইয়ের ক্ষেত্রে যাতে ধারাবাহিকভাবে পুলিসের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তার জন্য লালবাজারকে চিঠিও দিয়েছে পুরসভা। চিঠিতে পুলিসকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করে সব থানাকে সক্রিয় সহযোগিতার করার কথা জানিয়ে দেয়। পুর কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিসের উপস্থিতিতে বন্ধ বাড়ির তালা ভেঙে এলাকা সাফাই করা হয়। তারপর নতুন তালা লাগিয়ে সেই চাবি থানায় জমা দেওয়া হয়। এই কাজ করতে গিয়ে অতীতে একাধিকবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে পুরকর্মীদের। কারণ, প্রতিবেশী বা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের তরফে অনেক সময় বাধা দেওয়া হয়। এমনকী, পুরকর্মীদের আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিসের সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে সমস্যা কম হয়। কিন্তু সব ক্ষেত্রে পুলিসের সাহায্য মেলে না বলেই দাবি পুরকর্তাদের। তাই পুলিসের সাহায্য নিশ্চিত করতে কলকাতার পুলিস কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন পুর-কমিশনার।  

Advertisement

পুরসভার হিসেব বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি—এই দু’মাসে ৯৫১টি নোটিস ধরানো হয়েছে। তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। গত বছর ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া সংক্রমণ তুলনানমূলক কম হয়েছে শহরে। সেই সাফল্য ধরে রাখতে আগে থেকেই সবরকম তৎপরতা শুরু করেছে পুরসভা। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে ভোল বদলাতে পারে ডেঙ্গু। সেই কথা মাথায় রেখে এবার এপ্রিলের বদলে মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে বরোভিত্তিক প্রস্তুতি বৈঠক। আগামী বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠক হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে ডেপুটি মেয়র তথা পুর স্বাস্থ্যবিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ বলেন, ‘এবছর প্রথম থেকেই নোটিসের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অনেক আগে থেকে পুরসভার ভেক্টর কন্ট্রোল টিম মাঠে নেমেছে।’ এখনও পর্যন্ত শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ বলে জানিয়েছেন তিনি। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির জন্য জরিমানা বাবদ গত বছর প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা আদায় করেছে কলকাতা পুরসভা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ