দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: লোকসভায় শুরু হয়েছে অপারেশন সিন্দুরের উপর আলোচনা। আজ, মঙ্গলবার অপারেশন সিন্দুর নিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনা হওয়ার কথা। তার মধ্যেই কাশ্মীরে ‘অপারেশন মহাদেব’ নিয়ে সরগরম গোটা দেশ। এদিন সংসদে যখন অপারেশন সিন্দুরের উপর আলোচনা চলছে, তখন সংসদ ভবন সংলগ্ন চত্বর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলল দিল্লি পুলিস। কড়াকড়ি এতটাই যে, সংলগ্ন মেট্রো স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার জন্যও সোমবার দফায় দফায় পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। আধার বা ভোটার কার্ডের মতো সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে তবেই মিলেছে মেট্রো স্টেশনের ঢোকার ছাড়পত্র। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবার সংসদের অধিবেশন চলাকালীন কেন কার্যত পুলিসি হেনস্তার শিকার হয়ে হয় আম আদমিকে!
গত ২১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। সংসদের অধিবেশন শুরুর প্রথম দিন থেকেই সংসদ ভবন সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অংশ আক্ষরিক অর্থেই দুর্গে পরিণত করে ফেলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন দিল্লি পুলিস। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া সংলগ্ন রফি মার্গ থেকে রেলভবন হয়ে বিজয় চকের দিকে যেতে হলে দফায় দফায় পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আকাশবাণী ভবনের পাশ দিয়ে সংসদ ভবনের দিকে যেতে হলেও একই দশা। রেল ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় সচিবালয় মেট্রো স্টেশনের একটি গেট রয়েছে। সংসদ মার্গের নিকটবর্তী রেড ক্রস সোসাইটির পাশেও কেন্দ্রীয় সচিবালয় মেট্রো স্টেশনের আরও একটি প্রবেশ গেট রয়েছে। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, এই দু’টি গেট দিয়ে মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ করতে গেলে পুলিস কর্মীদের সচিত্র পরিচয়পত্র দেখাতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই দেরি হচ্ছে। পুলিস কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে।
সংসদ ভবন সংলগ্ন চা, কফি বা ফাস্ট ফুডের দোকানও অধিবেশন চলাকালীন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিসের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অমিত শাহের দিল্লি পুলিস কর্মীদের সাফ জবাব, ভিভিআইপি জোনে এটুকু সহ্য করতেই হবে আম জনতাকে!