নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘একজন পুলিশ অফিসার গোটা সমাজের বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। অথচ বিষয়টিকে রাজ্য খুব হাল্কাভাবে নিচ্ছে।’ তারকেশ্বরে মহিলা পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় শুক্রবার এমনই মন্তব্য করল বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ওই অফিসারের বিরুদ্ধে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। তারপরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে আদালত।
তারকেশ্বরের বাসিন্দা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার বিল্টু হাজরার সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশীর গণ্ডগোল হয়। বিল্টু তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ জানান। কিন্তু তাঁর দাবি, অভিযোগ পেয়েও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। উল্টে বিল্টুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে ফোনে কথা বলার সময় ওই মহিলা অফিসার মোটা অঙ্কের ঘুষ চান বিল্টুর কাছে। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ইঞ্জিনিয়ার। গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে নতুন করে রিপোর্ট চায়।
এদিন রাজ্যের রিপোর্ট দেখার পর ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে, ‘এই মহিলা পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ থাকলেও কেন দুর্নীতিদমন আইনের আওতায় তার তদন্ত হবে না? অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে শো’কজ করা হলেও, সেই নথিতে ঘুষের কথা কেন উল্লেখ নেই?’ এছাড়াও ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবক্ষেণ, অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না বলে রাজ্য যে দাবি করছে, তা সঠিক। কিন্তু রাজ্য ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কোনও সদর্থক পদক্ষেপও করছে না। যদিও রাজ্য জানায়, ওই অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু আদালত বলে, ‘এটা কোনও গাফিলতি নয়। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ। পুলিশের একজন অফিসার সাধারণ মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। অথচ এই বিষয়টি খুবই হাল্কাভাবে নিচ্ছে রাজ্য।’ আদালতের নির্দেশ, আগামী সোমবার রাজ্যকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তা দেখে আদালত পরবর্তী নির্দেশ জারি করবে।