Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঘটনাস্থল প্রমাণে ব্যর্থ পুলিস, দেহ ব্যবসায় অভিযুক্ত ৭ বেকসুর খালাস

মামলার নথিতে একই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে পুলিস দু’টি পৃথক পিন কোর্ড নম্বর উল্লেখ করেছিল। আর তাতেই বাঁধে গোল।

ঘটনাস্থল প্রমাণে ব্যর্থ পুলিস, দেহ ব্যবসায় অভিযুক্ত ৭ বেকসুর খালাস
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মামলার নথিতে একই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে পুলিস দু’টি পৃথক পিন কোর্ড নম্বর উল্লেখ করেছিল। আর তাতেই বাঁধে গোল। আদালত  বিষয়টি নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে। অভিযুক্তদের কৌঁসুলি আদালতে প্রশ্ন তোলেন, একই প্রতিষ্ঠানে দু’টি পিন কোর্ড থাকার অর্থ, ঘটনাটি সঠিক কোথায় ঘটেছিল, তা নিয়েই থেকে যাচ্ছে নানা সন্দেহ। সরকার পক্ষ থেকেও এনিয়ে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখা কোর্টের কাছে পেশ করতে পারেনি। ফলে পার্লারের আড়ালে দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ সংক্রান্ত এক মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে যান জামিনে থাকা সাত অভিযুক্ত। সম্প্রতি ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (জেএম) চন্দনা চক্রবর্তী ওই আদেশ দিয়েছেন। আদালতের মন্তব্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। মুক্তিপ্রাপ্তদের তরফে কৌঁসুলি ইয়াসিন রহমান বলেন, ‘মামলার তদন্ত নিয়ে পুলিসি গাফিলতির বিষয়টি আমরা কোর্টের কাছে তুলে ধরেছি। শেষ পর্যন্ত আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাওয়ায় আমরা খুশি।’ যদিও এনিয়ে মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মামলার রায়ের নথি খতিয়ে না দেখে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’       

Advertisement

কী ছিল মামলায় অভিযোগ? আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তালতলা থানার এস এন ব্যানার্জি রোডে একটি পার্লারে হানা দেয় কলকাতা গোয়েন্দা পুলিস। পুলিসের অভিযোগ ছিল, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পার্লারের আড়ালে চলছিল দেহ ব্যবসা। পুলিস ওই পার্লারের মালিক, ম্যানেজার, রিসেপশনিস্ট, খদ্দের সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় পুলিস একটি মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্তে নামে। পরবর্তী সময় অবশ্য সাত অভিযুক্তই জামিন পান। সেই মামলায় পুলিস ব্যাঙ্কশাল আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে। সেখানে মামলার একটি নথিতে দেখা যায়, ওই পার্লারের ঠিকানায় পুলিস উল্লেখ করেছে দু’টি পিন কোর্ড নম্বর। কলকাতা ১৪ ও কলকাতা ১৬। কোনটি সঠিক, তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এদিকে, পরবর্তী সময় আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। সেখানে এই মামলার সওয়াল চলাকালে অভিযুক্তদের আইনজীবী আদালতে বলেন, শুধুমাত্র পিন কোর্ড বিভ্রাটই নয়, তার পাশাপাশি সিজার লিস্টের সাক্ষীদের বয়ান ও বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ ওঠে, ওই সাক্ষীরা পুলিসের কাছে এক ধরনের বক্তব্য পেশ করেন। অন্যদিকে, আদালতে আরেক ধরনের সাক্ষ্য পেশ করেন। সব মিলিয়ে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হওয়ায়, আদালত এই মামলা থেকে সাতজনকেই খালাস দেয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ