


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এলাকা থেকে থানার দূরত্ব প্রায় ১৫ কিমি। ঝাড়খণ্ড ও মুর্শিদাবাদ সীমানাবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হয় নানা অপরাধ। মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ড থেকে দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে নানা অপরাধ ঘটিয়ে ফিরে যায়। চলে নানারকম পাচারের কাজ। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে পাইকরের ভীমপুরে চালু হল পুলিস ক্যাম্প। এতে এলাকার নিরাপত্তা বাড়বে বলে মত স্থানীয়দের।
মুরারই ২ ব্লকের পাইকর থানার অধীন আমডোল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভীমপুর গ্রাম। এই গ্রামের সাত কিলোমিটারের মধ্যেই মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ডের পাকুর থানা এলাকা। পুলিসের সেভাবে নজরদারি না থাকায় সেখানকার দুষ্কৃতীরা খুব সহজেই সীমানা পেরিয়ে অপরাধ ঘটায়। ১৫ কিমি দূরের পাইকর থানা থেকে পুলিস আসার আগেই দৃষ্কৃতীরা ফিরে যায়। এছাড়া রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন সামগ্রীর চোরাচালান চলে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি লাগোয়া রাজগ্রামে রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে আট দুষ্কৃতীর দাপাদাপির বিষয়টি সামনে এসেছে। তারা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ারদের তাড়া করে। সিসি ক্যামেরার সেই ফুটেজ ভাইরাল হয়। সেই সময় স্থানীয়রা অভিযোগে জানান, বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে বহু দুষ্কৃতী সীমানা পেরিয়ে এদেশে প্রবেশ করেছে। এই দুষ্কৃতীদের মধ্যে বাংলাদেশি যোগ রয়েছে। দুষ্কৃতী আতঙ্কে রাতজাগা শুরু করেন পাইকর ও লাগোয়া মুরারই থানার বহু গ্রামের বাসিন্দারা। চোর সন্দেহে আটক করে বেশ কয়েকজনকে পুলিসের হাতে তুলে দেন। এছাড়া পাইকর থানা থেকে ভীমপুর, আমডোল, নন্দীগ্রাম সহ একাধিক গ্রামে পুলিস পৌঁছতে সময় লাগে। এর মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়। এছাড়া থানায় অভিযোগ জানাতে এলাকার বাসিন্দাদেরও অনেকটা পথ যেতে হয়।
এই গ্রামে বাড়ি এলাকার বিধায়ক মোশারফ হোসেনের। অন্যদিকে এই গ্রামেই বেড়ে উঠেছিলেন সদ্য প্রয়াত বিজ্ঞানী মুনকির হোসেন। প্রত্যন্ত এই এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ২০ বিঘে জমির উপর কেরলের দারুল হুদা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন মুনকির সাহেব। সেখানে বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করেন। সবদিক বিচার করে এলাকায় পুলিস ক্যাম্পের দাবি ছিল বাসিন্দাদের।
অবশেষে ভীমপুর উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি কোয়ার্টারে পথ চলা শুরু করল পুলিস ক্যাম্প। ভীমপুরের বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত প্রধান নাজিমুদ্দিন শেখ বলেন, পাশেই মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ড সীমানা হওয়ায় এই ক্যাম্পের প্রয়োজন ছিল। অনেকটা পথ পেরিয়ে এলাকার মানুষকে থানায় যেতে হতো। সময় লাগত প্রায় একঘণ্টা। এবার কোনও অঘটন ঘটলে এই ক্যাম্পের পুলিস অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
অন্যদিকে বিধায়ক বলেন, ঝাড়খণ্ড ও মুর্শিদাবাদ থেকে দুষ্কৃতীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে চলে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত এই এলাকায় চুরির হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। এই ক্যাম্প হওয়ায় এলাকার নিরাপত্তা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। রামপুরহাট মহকুমা পুলিস আধিকারিক গোবিন্দ সিকদার বলেন, এই ক্যাম্পে একজন এএসআই, আটজন কনস্টেবল ও ছয়জন সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছেন। মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ড সীমানায় নজরদারি ও এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলতেই এই ক্যাম্প।