সংবাদদাতা, ডোমকল: দুর্গাপুজোর আর বেশিদিন দেরি নেই। আর পুজো মিটলেই শুরু হবে বিয়ের মরশুম। তাই এসময় সোনার অলঙ্কারের চাহিদা বেশি থাকে। দেশজুড়ে সোনার কেনাকাটা জমে উঠছে। আর এই ‘বাজার ধরতেই’ বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচার চলছে। পাচার রুখতে পুলিশ ও বিএসএফ সতর্ক রয়েছে।
ভারতীয় বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও বাংলাদেশে তা এখনও অনেকটাই সাধ্যের মধ্যে। সেইসঙ্গে ভারতে সোনার উপর আমদানি শুল্ক ও জিএসটির কারণে সোনার দাম অনেকটাই বেড়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের একাংশ কিছু টাকা বাঁচাতে বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে আনা সোনা কিনছে। গত কয়েকমাসে ডোমকল মহকুমায় চোরাপথে ভারতে সোনা পাচারের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে।
আগে পাচারকারীদের রুট উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু, গত কয়েকবছরে ডোমকল মহকুমার একাধিক সীমান্ত দিয়ে সোনা পাচারের নজির দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই রানিনগরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা আনতে গিয়ে দুই পাচারকারী ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি দামের সোনা উদ্ধার হয়। তারও আগে মে মাসের শেষদিকে সাগরপাড়া থানার পুলিশ ৫২ লক্ষ টাকার সোনা সহ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
তবে শুধু এবছরই নয়, গতবছরও ঠিক পুজোর মরশুমের আগে সোনা পাচারের একাধিক ঘটনা সামনে আসে। সেবার উৎসবের মরশুমে শুধু রানিনগর সীমান্ত থেকেই বিএসএফ কোটি টাকার সোনা বাজেয়াপ্ত করেছিল। বিএসএফ ও পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে সোনা পাচারের ক্যারিয়াররা মাঝেমধ্যেই ধরা পড়ছে। কিন্তু, বেশিরভাগ সময় পাচারচক্রের আসল মাথারা নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, সীমান্তের চাষি বা দিনমজুরদের প্রলোভন দেখিয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে। কয়েকঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় সোনা পৌঁছে দিতে পারলেই মেলে দেড়-দু’হাজার টাকা। সেই লোভে গ্রামের অনেকেই এমন বেআইনি কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের কাছে মূল মাথাদের বা পাচারের রুট সম্পর্কে তেমন তথ্যই থাকে না। ফলে এই ক্যারিয়াররা ধরা পড়লেও মূল অপরাধীদের ধরা পুলিশের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।