সংবাদদাতা, ডোমকল: রাস্তার দু’পাশে সারি সারি গজিয়ে উঠেছে ছোট ছোট সাদা ফুলওয়ালা গাছ। সেটাকে ধনিয়াগাছ বলে ভুল করলেই বিপদ। কারণ এগুলি বিষাক্ত পার্থেনিয়াম গাছ। সেই বিষাক্ত গাছে ছেয়ে গিয়েছে ডোমকল মহকুমার রাস্তাঘাটের আশপাশ, কৃষিজমি। বিষাক্ত এই গাছ নিয়ে গ্রাম বাংলার বহু মানুষের তেমন ধারণা না থাকায় বাড়ছে উদ্বেগ।
পার্থেনিয়ামের রেণু হল একপ্রকার দূষক। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা ফুসফুসে পৌঁছলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, অ্যালার্জি শুরু হতে পারে। এমনকী মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। অথচ অজ্ঞতার কারণে প্রায়শই বাচ্চারা পার্থেনিয়ামের ডাল ভেঙে খেলা করে। পাড়াগাঁয়ের বয়স্ক লোকেরাও ততটা সচেতন নন। আবার বিষয়টিকে একপ্রকার গ্রাহ্যের মধ্যেই আনছে না প্রশাসন। এর ফলে ইসলামপুর-সাগরপাড়া রাজ্য সড়কের ধারে গোয়াস, রানিনগর, শেখপাড়া, কাটাবাড়ি, সাগরপাড়া, ডোমকল, জলঙ্গি এলাকায় রাস্তার দু’ধারে লকলকিয়ে উঠছে পার্থেনিয়ামের ঝোপঝাড়।
শুধু রাস্তার ধারে নয়, ইদানীং ডোমকল মহকুমার প্রায় সবক’টি ব্লকের বহু কৃষিজমিতেই বাড়ছে পার্থেনিয়ামের প্রকোপ। মাঠগুলিতে অন্যান্য আগাছার সঙ্গে জেঁকে বসেছে পার্থেনিয়াম। শুধু আগাছা নয়, ফসলের সঙ্গেও একই সঙ্গে বেড়ে উঠছে পার্থেনিয়াম। এতে ধান-গমের মতো ফসলের উৎপাদন হ্রাস হওয়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। কৃষকেরা আবার অনেকেই আগাছার সঙ্গে পার্থেনিয়ামের ঝাড় কাটতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও সুরক্ষা না নিয়ে এই গাছ কাটতে গেলে বিপদ। পার্থেনিয়ামের রেণু হাতে, চোখে, মুখে লেগে হিতে বিপরীত হতে পারে। এদিকে সরকারি ভাবেও পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান অনেকটাই থমকে যাওয়ায় বিপদ আরও বাড়ছে।
সাগরপাড়ার প্রৌঢ় সালামত শেখ বলেন, পার্থেনিয়াম যে ক্ষতিকর, সেটা জানতাম। তবে এতটা যে বিষাক্ত, তা জানতাম না। গ্রামের মহিলারা তো এই গাছগুলিকে শুকিয়ে জ্বালানির মতো ব্যবহার করে।
রানিনগরের লুৎফর রহমান জানান, আগে ১০০ দিনের কাজে রাস্তা পরিষ্কারের সময়, পার্থেনিয়ামের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হতো। বিগত কয়েক বছর ধরে সেসবের আর দেখা মেলে না। তাই চারিদিকে পার্থেনিয়ামের এত বাড়বাড়ন্ত।
তবে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে লাগাতার সচেতনামূলক প্রোগ্রাম চলছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে গজিয়ে ওঠা পার্থেনিয়াম গাছকে নির্মূলের ব্যবস্থাও চলছে।