নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কথা ছিল চীনের পণ্য বয়কট করা হবে। শপথ নেওয়া হয়েছিল চীনের থেকে পণ্য আমদানি ধীর ধীরে কমিয়ে ভারতে আসবে নতুন স্বদেশি যুগ। মোতিহারি থেকে বারাণসী—প্রতিটি সভা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশি পণ্য ক্রয় করুন। স্বদেশি হোক নতুন মন্ত্র। অথচ ঠিক সেই সময়ই বাণিজ্য মন্ত্রকের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, চীন থেকে ভারতে আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি শিখর স্পর্শ করছে। করোনাকালে ঘোষণা করা হয়েছিল আত্মনির্ভর প্রকল্প। কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বরাদ্দ করার কথা। লাদাখের গলওয়ানে চীনা লালফৌজের সঙ্গে ভারতীয় সেনার সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে দূরত্ব অনেক বেড়েছে। সেই দূরত্ব ছিল এমনই যে, ২০১৯ সালের পর থেকে আর দুই দেশের কোনও সরকারি সফর হয়নি। এমনকী সম্প্রতি অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন পাকিস্তানের যে সব ফাইটার জেট থেকে ভারতে মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, সেগুলি চীনেরই দেওয়া। এমনকী রাহুল গান্ধী লোকসভায় বলেছেন, চীন দু’হাজার বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূমি দখল করে নিয়েছে। যা নিয়ে রাহুলকে ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে।
এসব এখন অতীত হতে চলেছে। জওহরলাল নেহরুর বিদেশ নীতিকে সবথেকে বেশি অপছন্দ করেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু এবার সম্ভবত নেহরুর প্রিয় চীন নীতির দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন তিনি। কারণ সব দূরত্ব ভুলে, সব বিরোধকে পিছনে সরিয়ে রেখে নরেন্দ্র মোদি চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ২৯ আগস্ট থেকে মোদির জাপান সফর শুরু হবে। জাপান থেকে ফেরার পথে মোদি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে যোগ দিতে চীনে যাবেন বলে জানা যাচ্ছে। সেখানে জি জিনপিং এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। কেন হঠাৎ চীনকে কাছে টানা? কৃটনৈতিক মহলের অনুমান, ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত আচরণ, প্রটোকল বহির্ভূত সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে প্রধানত উন্নতশীল দেশগুলিকে টার্গেট করাই এর কারণ। যেমন ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো। যদিও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা যতটা আগ্রাসী ভঙ্গিতে ট্রাম্পকে পালটা জবাব দিচ্ছেন, সেই তীব্রতা ভারত এখনও দেখায়নি। উল্লেখ্য, ব্রিকসকে (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা) আমেরিকা তথা ন্যাটোর পাল্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রয়াস শুরু হয়েছে আগেই। এবার সেই প্রয়াসে প্রবল গতি আসছে। আর চীন ও ভারতকে কাছাকাছি নিয়ে আসার অন্যতম দৌত্য সম্ভবত রাশিয়ার। রাশিয়া মনেপ্রাণে চাইছে, শক্তির নতুন অক্ষ হোক রাশিয়া-চীন-ভারত! এই প্ল্যানে যদি সত্যিই শেষ পর্যন্ত চীন ও ভারত সব সীমান্ত জটিলতা ভুলে পরস্পরের হাত ধরে, তাহলে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বিপুল বদল আসতে চলেছে।