সংবাদদাতা, কালনা: ৭৫ বর্ষ উপলক্ষে নাদনঘাট থানার বিদ্যানগর গয়ারাম দাস বিদ্যামন্দিরের প্লাটিনাম জুবিলি উদ্যাপনের সূচনা হল বুধবার। চলবে চারদিন ধরে। একই সঙ্গেই পালিত হবে বিদ্যালয়ের পুনর্মিলন উৎসব। প্লাটিনাম জুবিলি বর্ষ উপলক্ষে প্রথম দু’দিন চলবে বৈষ্ণব সম্মেলন। এদিন দেশ বিদেশের বৈষ্ণবদের উপস্থিতিতে প্রদীপ জ্বেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভাস বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক, কালীনগর শ্রীচৈতন্য শ্রীধর সেবাশ্রমের মহারাজ প্রপনু তীর্থ গোস্বামী, নবদ্বীপ শ্রীদেবানন্দ গৌড়িয় মঠের মহারাজ বেদান্ত গোস্বামী প্রমুখ।
এদিন চৈতন্য মহাপ্রভুর বাল্য শিক্ষাকেন্দ্র গঙ্গানন্দপুর থেকে পড়ুয়াদের একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক পরেশচন্দ্র গোস্বামীর নবদ্বীপের বাড়ি থেকে বর্তমান ও প্রাক্তন পড়ুয়াদের মশাল মিছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাজির হয়। এদিন বৈষ্ণবদের মহামিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের মাঠে বসেছে পড়ুয়াদের বিজ্ঞান, ভূগোল, জীববিদ্যা প্রদর্শনী। হস্তশিল্প সহ নানা স্টলে স্কুলমাঠ মেলায় পরিণত হয়েছে।
নবদ্বীপ সংলগ্ন কালনা মহকুমার পূর্বস্থলী-১ ব্লক এক সময় সাতশো ঘর পণ্ডিতের বসবাস ছিল। নবদ্বীপের সঙ্গে এই ব্লকের পণ্ডিতদেরও খ্যাতি ছিল জগৎজোড়া। একাধিক টোল, গুরুকুলে দেশ-বিদেশ থেকে ছাত্ররা আসত। এই অঞ্চলের গঙ্গানন্দপুরে ছিল গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোল। চৈতন্য মহাপ্রভু এই টোলেই বাল্য বয়সে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হতেই শিক্ষার প্রসারে বিদ্যানগর এলাকায় স্কুল চালু হয়। গয়ারাম দাস পরিবারের দান করা জমির উপর গড়ে ওঠে স্কুল। প্রধান শিক্ষক পরেশচন্দ্র গোস্বামীর উদ্যোগে ১৯৫০ সালে সরকারি অনুমোদন পায়। নাম হয় বিদ্যানগর গয়ারাম দাস বিদ্যামন্দির। পরেশবাবু পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থেকে ১৯৬৭ ও ১৯৭২ দু’বারের এলাকার বিধায়কও ছিলেন। তিনি এই অঞ্চলকে শিক্ষার হাব গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁরই ছাত্র ভূমিপুত্র মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ পরেশবাবুর স্বপ্নকে রূপ দিতে ওই অঞ্চলে বিএড কলেজ, আইটিআই, ভোকেশনাল সহ একাধিক শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। ১৯৫৫ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরেশবাবু আন্তর্জাতিক বৈষ্ণব সম্মেলন করেছিলেন। তাই এবার বিদ্যালয়ের প্লাটিনাম জুবিলি বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বুধ ও বৃহস্পতিবার বৈষ্ণব সম্মেলন ও কালচারাল অনুষ্ঠান রাখা হয়। শুক্র ও শনিবার বসন্তোৎসব ও পুণর্মিলন উৎসব উদযাপন করা হবে।বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিভাসবাবু বলেন, বিদ্যানগর গয়ারাম দাস বিদ্যামন্দির আজ গর্বের প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এলাকার শিক্ষার প্রসারে যেমন একের পর এডুকেশন সেন্টার গড়েছেন, তেমনই স্কুলের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছেন। সেজন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। -নিজস্ব চিত্র