Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ডিপ ব্রিদিং-এর শারীরিক ও মানসিক লাভ

ভারতে যোগীরা মনে করতেন শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং আয়ুর মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। ডিপ ব্রিদিং বা গভীর শ্বাসের প্রক্রিয়া স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। এই প্রসঙ্গেই জানিয়ে রাখি, সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র আমাদের জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি করে।

ডিপ ব্রিদিং-এর শারীরিক ও মানসিক লাভ
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কীভাবে করবেন শ্বাসের ব্যায়াম

Advertisement

জানালেন বিধান শিশু উদ্যানের যোগ বিশারদ অভিজিত্‍ গুহ।

ভারতে যোগীরা মনে করতেন শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং আয়ুর মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। ডিপ ব্রিদিং বা গভীর শ্বাসের প্রক্রিয়া স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। এই প্রসঙ্গেই জানিয়ে রাখি, সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র আমাদের জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি করে। ফলে স্ট্রেস, টেনশন বাড়ে সিমপ্যাথেটিক নার্ভ উত্তেজিত হয়ে থাকলে। অন্যদিকে প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের সাধারণ কাজ হল শরীর মন শান্ত করা ও শক্তি সংরক্ষণ করা। মন শান্ত থাকলে মনোনিবেশের ক্ষমতা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়ে। দেখা গিয়েছে নিয়ম মেনে গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলনে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া বাড়ে। একইসঙ্গে কমতে থাকে মানসিক চাপ। শরীরে ও মনে একধরনের প্রশান্তি বিরাজ করে। এই স্থিতধী অবস্থা ধ্যান বা প্রার্থনার জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে যা গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির জন্ম নিতে পারে।
কীভাবে করবেন গভীর শ্বাসের অভ্যেস
প্রথমে সুখাসন বা পদ্মাসনে বসুন। প্রাকৃতিক পরিবেশ বা যেখানে বায়ু চলাচল খুব ভালো হয়, এমন জায়গায় বসতে পারলে ভালো হয়। এবার গভীরভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস নেওয়ার সময় এতটাই গভীরভাবে শ্বাস নেবেন যেন পেট ফুলে যায়। শ্বাস নেওয়ার সময় একটা হাত থাকুক বুকের উপর, আর অন্য হাত রাখতে হবে পেটের উপর।
ওই অবস্থায় মনে মনে গুনতে থাকুন এক...দুই...তিন...চার। এভাবে ৫-৬ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করুন। এরপর ৬-৭ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। 
 শ্বাস ছাড়ার সময় ঠোঁট সরু করে খুব মন্থরগতিতে শ্বাস ছাড়বেন। শরীরের প্রতিটি কোষ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে এই আসনে। মানসিক ক্লান্তি ও শ্রান্তি দূর হয়। প্রতিটি কোষ পূর্ণ হয়ে ওঠে অক্সিজেন-এ। 
সাধারণত আমরা মিনিটে ১২-২০ বার শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রক্রিয়া করি। ডিপ ব্রিদিং-এর সাহায্যে আমরা এই শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার গতি যথাসম্ভব হ্রাস করা হয়।
ডিপ ব্রিদিং-এর সময় মন স্থির রাখুন। এই সময়কালে চোখ বন্ধ করে সৃষ্টিকর্তার কথা ভাবা যায়। স্মরণ করা যায় পিতা-মাতার মুখ।
মন চঞ্চল হলে, উদ্বেগে পূর্ণ থাকলে শ্বাসের ক্রিয়ায় দ্রুত হতে থাকে। শ্বাসের ক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলার অর্থ হল আয়ুক্ষয় হওয়া। অতএব এই প্রক্রিয়া আমরা যত ধীর করে দিতে পারব ততই মানসিকভাবে আমরা শান্ত হতে শুরু করবে। নাড়ির গতিও কমে আসবে। বাড়বে আয়ু। এভাবে ১১ বার বা ২১ বার গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া ও ত্যাগের অভ্যেস করা যায়।
ডিপ ব্রিদিং অভ্যেসের প্রকৃত সময় হল ভোরবেলা। খালিপেটে এই আসন অভ্যেস করা উচিত। যে কেউ এই আসন অভ্যেস করতে পারেন।

শ্বাসের অনুশীলনে কমান উদ্বেগ

পরামর্শে ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি-এর অধ্যাপক ডাঃ সুজিত সরখেল।

ডিপ ব্রিদিং কোনও মানসিক রোগের চিকিত্সা বা চিকিত্‍সার বিকল্প নয়। তবে কিশোর-কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের মধ্যে এই বিষয়ে সমীক্ষা হয়েছে। নানা সমীক্ষাতেই দেখা গিয়েছে, গভীরভাবে শ্বাসের ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়ে যায়। এছাড়া উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা লক্ষ্য করা গিয়েছে ডিপ ব্রিদিং-এর।
• যাঁদের সারাদিনে প্রচুর কাজের চাপ সামলাতে হয়, মনে যেন প্রেশার কুকারে আছি— তাঁদেরও মানসিক অস্থিরতা কমাতে পারে ডিপ ব্রিদিং-এর অভ্যেস। 
• ডিপ ব্রিদিং-এর সাহায্যে শরীর প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে প্রাধান্য দিতে সাহায্য করে। এর ফলে ব্যক্তির মধ্যে স্থৈর্য বাড়ে।
• তীব্র টেনশনের মুহূর্তে যেমন অফিসে বস-এর তিরস্কারের সময় বা পরে, প্রিয়জনের সঙ্গে বা অপরিচিত ব্যক্তর সঙ্গে বাক-বিতণ্ডার মুহূর্তে, মঞ্চে বা সমাবেশে কোনও বক্তব্য পেশ করার আগে ডিপ ব্রিদিং পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে সাহায্য করে।
• প্রাণায়মেও ডিপ ব্রিদিং-এর কাজ হয়।
পদ্ধতি
ডিপ ব্রিদিং-এর সাধারণ পদ্ধতি হল, প্রথমে নাক দিয়ে বুক ভরে শ্বাস নেওয়া হয়। শ্বাস যে সময় ধরে গ্রহণ করা হয় তার চাইতে বেশি সময় ধরে শ্বাস ধরে রাখা হয় বুকে। এরপর শ্বাস ধরে রাখার তুলনায় বেশি সময় ধরে শ্বাস ত্যাগ করা হয়। শ্বাস ত্যাগের সময় ঠোঁট সরু করেও শ্বাস ত্যাগ করেন কেউ কেউ। 
সাধারণভাবে, শ্বাস নেওয়ার সময় আমরা একটু শ্বাস চেপে রাখি। এক্ষেত্রে পেট ফুলিয়ে শ্বাস নিতে হবে সচেতনভাবে। পেট আদৌ ফুলছে কি তা তা বোঝার জন্য এই কারণে পেটে হাত রাখতেও বলা হয়। 
বিদেশিদের মধ্যেও ডিপ ব্রিদিং-এর অভ্যেস আছে। মার্কিন মুলুকে ডিপ ব্রিদিং  বেশি পরিচিত ‘বক্স ব্রিদিং’ নামে। এক্ষেত্রে ৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৪ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখা ও ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়া পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। 
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ