Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাইডের অভাবে ছ’বছরেও হয়নি পিএইচডি, হস্তক্ষেপ হাইকোর্টের

গাইডের অভাব। যার জেরে দীর্ঘ প্রায় ছ’বছর রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্কর কাটলেও পিএইচডি করা হয়নি আব্দুল মুস্তাক আলম নামে এক ছাত্রের।

গাইডের অভাবে ছ’বছরেও হয়নি পিএইচডি, হস্তক্ষেপ হাইকোর্টের
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: গাইডের অভাব। যার জেরে দীর্ঘ প্রায় ছ’বছর রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্কর কাটলেও পিএইচডি করা হয়নি আব্দুল মুস্তাক আলম নামে এক ছাত্রের। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সম্প্রতি ওই ছাত্রকে গাইড দিয়ে পিএইচডি সম্পূর্ণ করানোর ব্যাপারে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এতে অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন ছাত্রটি। 

Advertisement

এই ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। উপাচার্য দীপক কুমার রায় বলেন, হাইকোর্টের রায় আমরা হাতে পেয়েছি। মুস্তাক সংস্কৃত বিভাগের স্কলার ছিলেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে নো-অবজেকশন নিয়ে দর্শন বিভাগে আসায় সেই সময় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯ জানুয়ারি এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সংস্কৃত এবং দর্শন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকরাও থাকবেন। আশাকরি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, পিএইচডি নিয়ে ইউজিসির গাইডলাইন মেনে চলে বিশ্ববিদ্যালয়। ডিপার্টমেন্টাল পিএইচডি কমিটি ও সর্বোচ্চ কমিটি বা বিআরএস, মূলত এই দুটো কমিটি পিএইচডি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে। তারাই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পিএইচডি করার জন্য প্রচুর পড়ুয়া থাকলেও সমান অনুপাতে শিক্ষক নেই বলে অভিযোগ। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পড়ুয়াদের। তারপরেও পিএইচডি সফলভাবে পরিচালনার জন্য  বিশ্ববিদ্যালয় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  
হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল মুস্তাক আলম জেলার ইটাহার ব্লকের সুরুন-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ডামডোলিয়া এলাকার বাসিন্দা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য রায়গঞ্জ শহরেই তিনি ভাড়ায় থাকেন। তাঁর কথায়, ২০১৮ সালে সংস্কৃত বিভাগে পিএইচডি সম্পূর্ণ করতে ভর্তি হয়েছিলাম। তারপর থেকে ২০২৪ সাল পেরিয়ে গেলেও পিএইচডি করার জন্য সংস্কৃত বিভাগ থেকে গাইড দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবে ৬ বছর কেটে গেলেও পিএইচডি সম্পূর্ণ হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, একজন পড়ুয়া যখন পিএইচডির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তাঁকে ছ’বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের গাইডের অধীনে পিএইচডি করতে হয়। এই সময়সীমার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাইড দেওয়া না হলে সমস্যায় পড়তে হয়। সম্পূর্ণ করা যায় না পিএইচডি। তাই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই। কিন্তু কাজ না হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম।
মুস্তাক জানান, ৬ জানুয়ারি এব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে তাঁর পিএইচডি সম্পূর্ণ করানোর জন্য চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যে গাইড দিয়ে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে। তাই এখন অনেকটাই স্বস্তিতে তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ