সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়, মেদিনীপুর: হরিমতি স্কুল ময়দানে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ডেবরা গ্রামীণ উৎসব। চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। এই উৎসবকে ঘিরে বসবে মেলাও। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ডেবরা সহ আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা এই মেলার অপেক্ষায় দিন গোনেন। ঘাটালের সাংসদ অভিনেতা দেব তথা দীপক অধিকারীর পৃষ্ঠপোষকতায় এই গ্রামীণ মেলা শুরু হয়। এবার এই মেলা নবম বছরে পড়ল। উদ্যোক্তাদের দাবি, এই মেলা জেলার অন্যতম জনপ্রিয় গ্রামীণ মেলা। বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবীরকে চেয়ারম্যান করে তৈরি করা হয়েছে মেলা কমিটি। সাংসদ প্রতিনিধি তথা ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সীতেশ ধাড়াকে সভাপতি ও অশোক রায়কে সম্পাদক করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়। তবে মেলার বেশিরভাগটাই সামাল দিতে হয় সভাপতিকেই। সভাপতি জানান, কমিটির সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে মেলা পরিচালনার জন্য প্রতিদিনই বৈঠক হচ্ছে। সভাপতি বলেন, সাংসদ দীপক অধিকারীর উদ্যোগেই ২০১৭ সালে প্রথম এই মেলা শুরু হয়। এখন তিনি এই মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। প্রতিবারই মেলাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দেয়। মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় উপচে পড়ে। এবারও সেই রকমই ভিড় হবে ধরে নিয়ে এখন থেকে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ডেবরা ছাড়াও জেলার অন্যান্য জায়গা থেকেও বহু মানুষ মেলা দেখতে আসেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দারাও মেলায় ভিড় জমান। দর্শকদের দিকে তাকিয়ে মেলার আকর্ষণ বাড়ানোর সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই সবাইকে আনন্দ দেওয়া। মেলায় প্রচুর স্টল থাকছে। জিনিসপত্রের পাশাপাশি খাবারের দোকান রয়েছে। ছোটদের মনোরঞ্জনেরও ব্যবস্থা থাকছে। প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতার নামী শিল্পীরাও সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। স্থানীয় শিল্পীদের যোগদানের জন্য আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে বেশকিছু সামাজিক কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে। রক্তদান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি থাকছে অঙ্কন ও যোগাসন প্রতিযোগিতাও। সভাপতি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষ, পুলিস, প্রশাসনের সহযোগিতায় মেলাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



