Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

মৃত কর্মীর পরিবারকে বিমার টাকায় বঞ্চনা রুখতে তৎপর পিএফ দপ্তর

পিএফের আওতায় যে সামাজিক সুরক্ষাগুলি পাওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনশিওরেন্স বা বিমা। যদি কোনও ব্যক্তি কর্মরত অবস্থায় মারা যান, সেক্ষেত্রে তাঁর পরিবার থোক টাকা পায় বিমার মাধ্যমে।

মৃত কর্মীর পরিবারকে বিমার টাকায়  বঞ্চনা রুখতে তৎপর পিএফ দপ্তর
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএফের আওতায় যে সামাজিক সুরক্ষাগুলি পাওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনশিওরেন্স বা বিমা। যদি কোনও ব্যক্তি কর্মরত অবস্থায় মারা যান, সেক্ষেত্রে তাঁর পরিবার থোক টাকা পায় বিমার মাধ্যমে। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও) নিজেই জানাচ্ছে, নানা অজুহাত বা ছুতোয় হয় মৃত পিএফ সদস্যের পরিবারকে বিমার টাকা দিচ্ছে না, অথবা প্রাপ্যের চেয়ে কম টাকা দেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক স্তরের পিএফ কর্মীদের একাংশ এই কাজ করছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের বহর বাড়তে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে পিএফ কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

কোনও পিএফ সদস্য মারা গেলে তাঁর পরিবার সর্বোচ্চ সাত লক্ষ টাকা বিমা হিসেবে পেতে পারে। সর্বনিম্ন বিমার অঙ্ক ছিল আড়াই লক্ষ টাকা। কর্মীর চাকরির মেয়াদ এবং পিএফের জমার উপর নির্ভর করে বিমার অঙ্ক। এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, কোনও ব্যক্তি যদি একবছরের কম চাকরি করেন এবং মারা যান, তাহলে তাঁর পরিবার কোনও বিমার টাকা পাবে না। যদি কোনও ব্যক্তি একটি চাকরি ছেড়ে আরও একটি চাকরি নেন এবং দু’টি চাকরির মধ্যে সময়ের ফাঁক থেকে যায়, তাহলেও চাকরির মেয়াদে ছেদ পড়ে এবং বিমার অঙ্কে তার প্রভাব পড়ে। 
পিএফের কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের শেষ বৈঠকে এই বিষয়ে নতুন করে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমটিতে বলা হয়, যদি কোনও ব্যক্তি একবছরের কম কোনও সংস্থায় কাজ করেন এবং মারা যান, তাহলেও তাঁর পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার দেওয়া হবে বিমা বাবদ। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে বলা হয়, কোনও ব্যক্তির পিএফের টাকা যদি ছ’মাস পর্যন্ত জমা না পড়ে এবং তিনি যদি ওই ছ’মাসের মধ্যে মারা যান, তাহলেও তাঁর পরিবারকে বিমার টাকা মেটাতে হবে। তৃতীয় নিয়মেও আরও একটি সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২.৫ লক্ষ এবং সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা বিমার সুবিধার ক্ষেত্রে একবছর টানা কাজ করা জরুরি। আগে কোনও ব্যক্তি একটি সংস্থা ছেড়ে অন্য কোনও সংস্থায় যদি কাজে যোগ দিতেন এবং দু’টি কাজের মাঝে ছুটির দিন, শনি বা ররিবার পড়ত, তাহলে ধরে নেওয়া হতো টানা একবছর কাজ হয়নি। এই অছিলায় বিমার টাকা মিলত না। সেই নিয়মের বদল আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, একটি সংস্থায় কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং অপর একটি সংস্থায় কাজে যোগ দেওয়ার মাঝে যদি দু’মাসের ব্যবধান থাকে, সেক্ষেত্রেও ছেদবিহীন টানা কাজ হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে এবং বিমার টাকা দিতে হবে। এই তিনটি সুবিধার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
পিএফ কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম জারি হলেও, রোগ সারেনি। একটি সংস্থায় কাজ ছেড়ে অন্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার ম঩ধ্যে এখনও শনিবার, রবিবার, রাজ্য সরকারি ছুটি, কেন্দ্রীয় সরকারি ছুটি, কোনও বিশেষ ছুটি বা অন্যকোনও ছুটি যদি চলে আসে, তাহলে আগের মতোই বিমার টাকা দিতে চাইছে না কিংবা প্রাপ্যের চেয়ে কমই দিচ্ছে কিছু আঞ্চলিক পিএফ অফিস। এই নিয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়ছে দপ্তরে। তা যাতে আর না-হয়, তার জন্য দিল্লি থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক অফিসগুলিকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ