Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুর পুরসভায় মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ

বোলপুর পুরসভায় মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুর পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় ফের বেড়েছে মশার উপদ্রব। একে বেজায় গরম। অন্যদিকে মশার কামড়। ফলে রাতে শান্তির ঘুম দফারফা হওয়ার জোগাড় পুরবাসীর। তাঁদের দাবি, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিয়মিত কামান দাগা হয় না বলেই মশার দ্রুত বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত নালা নর্দমা সাফাই হয় না বলেই সেই জমা জলে মশককুলের বংশবৃদ্ধি ঘটছে। সব সময় মশারির ভিতর থাকা সম্ভব নয়, তাই সন্ধ্যায় মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হচ্ছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।‌ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশা বাহিত রোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বোলপুর পুরসভা। চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষের দাবি প্রতিটি ওয়ার্ড এই নিয়মমাফিক মশা মারার কামান ব্যবহৃত হয়। সাফাই অভিযানও নিয়মমাফিক চলে। তবে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে পুরসভা বদ্ধপরিকর। মশা মারতে কামান দাগার অভিযান আরও নিয়মিত করা হবে‌। 

Advertisement

বোলপুর পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত নর্দমা সাফাইয়ের পর লার্ভিসাইড, পাইরেথ্রয়েড, টেমিফস প্রভৃতি রাসায়নিক তেল ব্যবহার করে মশার লার্ভা ও ডিম প্রভৃতি নষ্ট করা হয়। এর পাশাপাশি মশা মারার কামান ব্যবহার করেও মশক বাহিনীর বংশ নির্বংশ করা হয়। কিন্তু, অনেকদিন ধরেই সেই পরিষেবা মিলছে না— এমনটাই অভিযোগ বেশ কিছু ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। মশা মারার কামান নিয়মিত ব্যবহারের পাশাপাশি ধারাবাহিক নালা-নর্দমা সাফাইয়ের দাবি তুলেছেন অনেকে। বোলপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উজ্জল রায়, অঙ্কুর দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে সম্প্রতি মশার উপদ্রব খুব বেড়েছে। সন্ধ্যা হলেই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। ছোট বাচ্চাদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। মশা মারার কামানও নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না।’ একই অভিযোগ জানান ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুপ্রিয়া সাহা। তিনি বলেন, ‘নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার না হওয়ার কারণে নালার জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। মশার কামড়ে রাতে ঘুমোতেও পারছিনা। এছাড়া মশা বাহিত ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া প্রভৃতি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ‌পুরসভাকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। বোলপুর পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন রাসায়নিক তেলের পাশাপাশি মশা মারার কামানে সাইপোথিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিয়মিত মশা মারার কর্মসূচি চলে। শুধু পুরসভার কর্মী ও আধিকারিকদের দোষারোপ করে লাভ নেই। এলাকাবাসীদেরও সচেতন হতে হবে। খোলা জায়গায় জল যাতে না জমে, সে বিষয়েও সকলকে নজর দিতে হবে। মশার উপদ্রব বেড়েছে এ কথা স্বীকার করে চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ বলেন, সাফাই অভিযান নিয়মিত হয় না এই অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য নয়। তবুও যে সমস্ত ওয়ার্ডে মশা বেড়েছে, সেইসব ওয়ার্ড কাউন্সিলারদের দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলব। আশা করি তাতে দ্রুত সমস্যা মিটবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ