Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্পূর্ণ হয়নি পথশ্রী প্রকল্পের কাজ, ক্ষোভ

পথশ্রী প্রকল্পে এক বছর আগে শুরু হওয়া রাস্তার কাজ এখনও অসম্পূর্ণ।

সম্পূর্ণ হয়নি পথশ্রী প্রকল্পের কাজ, ক্ষোভ
  • ১০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: পথশ্রী প্রকল্পে এক বছর আগে শুরু হওয়া রাস্তার কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন নবদ্বীপ মহিশুরার চৌধুরীপাড়া, গদখালি, মালিতা পাড়া, মাঝের চড়া সহ বেশ কিছু গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েতের চৌধুরী পাড়া থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাঞ্চনতলা ঘাটের আগে পর্যন্ত প্রায় দু’ কিলোমিটার রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নবদ্বীপের মহিশুরা পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় দু’ কিলোমিটার পথশ্রী প্রকল্পের এই পিচ রাস্তাটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। ভাগীরথী তীরবর্তী চৌধুরীপাড়া থেকে পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানার কাঞ্চনতলার আগে পর্যন্ত কাজ শুরু হয়। কিন্তু রাস্তাটির সত্তর শতাংশ কাজ হলেও তিরিশ শতাংশ কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। স্থানীয় একটি ইটভাটার কাছে গঙ্গার ধারে যে নতুন কালভার্ট তৈরি হয়েছে, সেখানে মাটির স্তূপ পড়ে রয়েছে। বৃষ্টি হলেই জলকাদা হয়ে যায়। মূলত এই রাস্তা দিয়ে মহিশুরা পঞ্চায়েতের চৌধুরীপাড়া, গদখালি, মালিতাপাড়া, মাঝের চড়া কালীনগর প্রায় তিন-চার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এই সব এলাকার অনেক কৃষক তাঁদের জমির উৎপাদিত ফসল নিয়ে যান নবদ্বীপ সহ পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার সমুদ্রগড়, নিমতলা বাজার, বিবিরহাট বাজারে। আর এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে বা সাইকেলে এই অঞ্চলের পড়ুয়ারা পূর্ব বর্ধমানের জালুইডাঙা জিসিপি বালিকা বিদ্যালয় এবং সমুদ্রগড় হাইস্কুলে যাতায়াত করেন। মাঝেরচড়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মাসকুরা খাতুন বলেন, আমি পূর্ব বর্ধমানের জালুইডাঙা জিসিপি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ি। সাইকেল করে স্কুলে যেতে হয়। এই রাস্তার পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। কালভার্টের সামনে রাস্তাটি এখনও পিচ হয়নি। সে কারণে বৃষ্টি হলে জলকাদা হয়ে যায়।  মাঝেরচড়া গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মহিরুদ্দিন শেখ বলেন, আমি প্রতিদিন গ্রাম থেকে সব্জি নিয়ে সমুদ্রগড় বাজারে যাই। কিন্তু এই রাস্তাটি যেভাবে করার কথা সেভাবে হয়নি। কালভার্টের দু’ দিকে রাস্তাটি এখনও হয়নি। পূর্ব বর্ধমানের কাঞ্চনতলার বাসিন্দা সূচি মণ্ডল বলেন, আমি একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করি। এই গ্রামে আমাকে আসতে হয়। রাস্তার কয়েকটি জায়গা ভেঙে গিয়ে উঁচুনিচু হয়ে গিয়েছে। ফলে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর। স্থানীয় দুই পঞ্চায়েত সদস্য সাহাজুদ্দিন শেখ ও মহসিন মণ্ডল বলেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে থেকে পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তার কাজ শুরু হয়। খরচের পরিমাণ প্রায় ৯৬ লক্ষ টাকা। প্রথমদিকে ৭০ ভাগ কাজ ভালোই উতরে গেছিল। কিন্তু দেড় মাস পরে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় ১০ মাস ধরে কাজটা বন্ধ হয়ে রয়েছে। তারপর আর চালু হয়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েত, ব্লক থেকে শুরু করে জেলা পরিষদকে জানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। মহিশুরা গ্রামের বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের সদস্যা আরজুবানু খাতুন বলেন, এই রাস্তার কাজ বন্ধের বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। উনি জানিয়েছেন দ্রুত কাজ শুরু হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ