নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের একাংশ আচমকা ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছে এক স্কুল পড়ুয়া। সংকীর্ণ গলির ভিতরে বেআইনিভাবে ওই পাঁচতলা বিল্ডিংটি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা জানিয়েছেন, বিল্ডিং নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণেই এই দুর্ঘটনা।
চ্যাটার্জিহাট থানার শরৎ চ্যাটার্জি রোডে একটি সরু গলির ভিতরে রয়েছে ওই নির্মীয়মাণ পাঁচতলা বিল্ডিং। অভিযোগ, এদিন সকাল ১০টা নাগাদ আচমকা চারতলার উপরের কার্নিশের একটি বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। তখন নীচে দিয়ে যাচ্ছিল এক স্কুল ছাত্রী। একটি বড় চাঙড় তার সাইকেলের উপর এসে পড়ে। দুমড়ে মুচড়ে যায় সাইকেলটি। ছাত্রীটিও কমবেশি জখম হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ওই পড়ুয়ার মাথায় কার্নিশ ভেঙে পড়লে কী যে হতো, কেউ জানে না। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছে সে। খবর পেয়ে ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যান।
জানা গিয়েছে, একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী এদিন সকালে টিউশন পড়তে গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার সময় এই ঘটনা ঘটে। ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘মেয়ের সামান্য আঘাত লেগেছে। তবে এই ঘটনায় কোনও অভিযোগ করতে চাই না।’
মাত্র পাঁচ ফুট চওড়া গলিতে কীভাবে পাঁচতলা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই বলেন, বিল্ডিং নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। সে কারণেই এই দুর্ঘটনা। পুরসভা নজর না দিলে আগামী দিনে বড় বিপদ ঘটতে পারে। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যায় চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ। বিল্ডিংয়ের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই বিল্ডিংয়ের প্রোমোটার অপূর্ব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুরসভার অনুমতি নিয়েই বিল্ডিং তৈরি করা হচ্ছে। কোনও বেআইনি কাজ হচ্ছে না।’ এ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে হাওড়া পুরসভা। জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার বিল্ডিংটি খতিয়ে দেখতে পুর ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থলে যাবেন। বেআইনি নির্মাণ হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-নিজস্ব চিত্র