


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ৯ বছর বয়সে বাবা-মা’র বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। কেউ ‘ভাগে’ নেয়নি তাঁকে। ঠাঁই দিয়েছিলেন বয়স্ক ঠাকুমা। তাঁর কাছেই মানুষ। বয়সের ভারে ঠাকুমারও কোমর বেঁকেছে। তাই সংসারের হাল ধরতে স্কুল ছেড়ে পরিচারিকার কাজ নিতে হয়েছিল রাজারহাটের বালিকাকে। সময় গড়িয়ে তিনি এখন তরুণী। বিয়ের বয়স হয়েছে। কিন্তু, গরিবের ঘরে টাকা আসবে কোথা থেকে? সেই দুশ্চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছিলেন তাঁকে। অবশেষে সেই দুশ্চিন্তা দূর হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পে। রূপশ্রীর অনুদানে ৪ মার্চ বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ওই তরুণী। তাঁর আবেদন মঞ্জুরও হয়ে গিয়েছে। সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে এককালীন ২৫ হাজার টাকা।
যে সব পরিবারে বার্ষিক আয় দেড় লক্ষ টাকার কম, সেই গরিব পরিবারের তরুণীরা প্রথম বিয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ করা হয় না। এবং তা বেআইনি। পাত্রী ও পাত্র দু’জনকেই সরকারি হিসেব অনুযায়ী বিবাহযোগ্য হতে হবে। আবেদন জমা পড়ার পর প্রশাসনের তরফে সরজমিনে খতিয়ে দেখে অনুমোদন দেওয়া হয়। তারপর পাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
এই তরুণীর বাড়ি বিধাননগর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত রাজারহাট-গোপালপুরের বেড়াবেড়ি রামনগরে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই অভাব তাঁর নিত্যসঙ্গী। ৯ বছর বয়সে বাবা-মা দু’জনেই তাঁকে ছেড়ে চলে যান। ঠাকুমা রাখেন নাতনিকে। কিন্তু, ঠাকুমাও সামর্থ্য ছিল না তাঁকে পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি খাওয়ানো। তাই দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুলের গণ্ডি ছাড়তে হয় তাঁকে। পেট ভরানোর জন্য পরিচারিকার কাজ শুরু করেন। সেই কাজ এখনও করে যান। ঠাকুমার বয়স এখন ৯০। তরুণীর বয়স ২৫। যাঁদের বাড়িতে কাজ করেন, তাঁরাই তাঁকে জানান, রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে। এরপরই তিনি বিধাননগর পুরসভায় গিয়ে আবেদন করেন। দ্রুত আবেদন খতিয়ে দেখে মঞ্জুর করে প্রশাসন। তাতে খুশি ওই তরুণী।