


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সমস্ত জল্পনার অবসান। সোমবার পানিহাটি পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হল চেয়ারম্যান মলয় রায়ের পদত্যাগপত্র। আগামী ২১ মার্চ, শুক্রবার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন। তার জন্য এদিনই ভাইস চেয়ারম্যানের সই করা চিঠি কাউন্সিলারদের দেওয়া হয়েছে। এদিন বোর্ড মিটিংয়ে হাজির সমস্ত কাউন্সিলারের সুর ছিল এক তারে বাঁধা। সবাই একবাক্যে বলেছেন, দলনেত্রীর নির্দেশের পর আর কোনও মতামত থাকতে পারে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, বোর্ড মিটিংয়ের আগেই ‘দেওয়াল লিখন’ পড়ে ফেলেছিলেন প্রভাবশালীরা। বিদ্রোহ কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে তঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই সঙ্কটে পড়বে ভেবেই রণে ভঙ্গ দিয়েছেন সকলে। তবে এদিন গোলমালের আশঙ্কায় এসিপির নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
গত কয়েক মাস ধরে পানিহাটি পুরসভায় টালামাটাল পরিস্থিতি চলছে। নাগরিক পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সেই সঙ্গে চরমে উঠেছে শাসক তৃণমূলের গোষ্ঠী রাজনীতি। এই আবহে ‘পানিহাটির ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত ৮৫ বিঘা আয়তনের অমরাবতী মাঠ বিক্রির গুঞ্জনে শহরবাসীর ক্ষোভ তীব্র হয়। আসরে নামতে হয় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সরকারিভাবে অমরাবতী মাঠ অধিগ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুরসভার চেয়ারম্যানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই চেয়ারে পুরসভার সিআইসি(পূর্ত) সোমনাথ দে’কে বসানোর বিষয়েও তিনি সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া নিয়ে বিস্তর টালাবাহানা করেন মলয়বাবু। স্থানীয় স্তরে প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তৃণমূলের অন্দরেও। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বোচ্চ স্তরের সাঁড়াশি চাপে পদত্যাগপত্র জমা দেন মলয়বাবু। এরপর তিনি বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটির জল্পনা উস্কে দিয়েছিলেন। রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি ভোলবদল করেন। বলেন, কোনও ভোটাভুটি হবে না। দলনেত্রীর নির্দেশই শিরোধার্য।
এদিন ছিল সেই বোর্ড মিটিং। পুরসভার ৩৫ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ৩৩ জন উপস্থিত ছিলেন। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলবন্দি কাউন্সিলার তারক গুহ এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলার সঙ্গীতা সরকার অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ৩৩ কাউন্সিলারের মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার রাজা আহমেদ ছাড়া বাকিরা তৃণমূলের। বৈঠকে উপস্থিত সব কাউন্সিলার মলয়বাবুর পদত্যাগের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানান। মলয়বাবু বলেন, ‘বোর্ড অব কাউন্সিলার্সের মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই দলের সৈনিক। দলে কোনও অনৈক্য বা দ্বিমত নেই।’ এবিষয়ে পানিহাটি শহর(পূর্ব) তৃণমূলের সভাপতি তথা কাউন্সিলার সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, ‘দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে সর্বসম্মতিতে। একইভাবে দলই বলে দেবে, কে চেয়ারম্যান হবেন।’