নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হুইপলস অস্ত্রোপচারে মালদহের কালিয়াচকের ১৭ বছরের ছাত্রীর জীবন বাঁচাল পিজি। ২০২৪ সাল থেকে দফায় দফায় অসম্ভব পেট ব্যথা এবং বমির সমস্যায় জেরবার হচ্ছিল মেয়েটি। ধরা পড়ে প্যানক্রিয়াসের মাথায় বিশালকার টিউমার। ছড়িয়েছে তলপেট পর্যন্ত। এমনকী কোলনের একটি অংশও আক্রান্ত। এবছরের গোড়া থেকে শুরু হয় স্টুলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ। হিমোগ্লোবিন তিনেরও নীচে নেমে যায়। মঙ্গলবার ৮ ঘণ্টার অপারেশনে তার জীবন বাঁচাল পিজি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো সার্জারি বিভাগ। এই সাফল্য রাজ্যের চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকল। ডাক্তারদের বক্তব্য, প্যানক্রিয়াসের মাথায় টিউমারটির নাম ‘সিউডোপ্যাপিলারি নিউপ্লাজম অব প্যানক্রিয়াস (এসপিএন)। বিরল বিনাইন টিউমারটি আকারে বিশাল—১৮ সেমি দীর্ঘ ও ১২ সেমি প্রস্থ এবং ওজন ২ কেজি! গ্যাস্ট্রো সার্জারির বিভাগীয় প্রধান ডাঃ সুকান্ত রায় বলেন, ‘প্যানক্রিয়াসের মাথায় এত বড় ‘এসপিএন টিউমার’-এর দ্বিতীয় উদাহরণ বিশ্ব চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসে মেলেনি।’ বিভাগীয় চিকিৎসক তথা পিডিটি ডাঃ হেমাভ সাহা বলেন, ‘সপ্তাহ দুই আগে মেয়েটি আমাদের বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসে। হিমোগ্লোবিন এতটাই কম ছিল, পরিমাপই করা যাচ্ছিল না। পর্যাপ্ত রক্ত দিয়েও অপারেশন ছিল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচারের পরও তাকে অনেক রক্ত এবং প্লাজমা দিতে হয়েছে।’ কীভাবে সম্ভব হল এই প্রায় অসম্ভব অস্ত্রোপচার? চিকিৎসাশাস্ত্রে এই অপারেশনের নাম হল হুইপলস অপারেশন। এতে ওই কিশোরীর প্যানক্রিয়াসের মাথা, পাকস্থলীর শেষাংশ, ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথমাংশ, পিত্তনালির শেষাংশ এবং কোলনের কিছুটা অংশ বাদ দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে রোগীর জীবনযাপন ঠিক রাখতে অস্ত্রোপচারের শেষদিকে খাদ্যনালির সঙ্গে চার জায়গায় পুনর্গঠন করা হয়। ডাক্তাররা জানান, গ্যাস্ট্রো সার্জারির সঙ্গে সুন্দর সংগত করে অ্যানাসথেশিয়া, নার্সিং এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের (ওটি) দক্ষ টিম। বাইরে এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে খরচ পড়ত প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে পিজিতে হয়েছে প্রায় বিনামূল্যেই!



